 বঙ্গবন্ধুর ভাষন : ৭ মার্চের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
॥ বিজন সেন॥
৭ মার্চ’১৯৭১। বাঙালী জাতির জীবনে ঐতিহাসিক দিন। অনন্য এই ইতিহাসের স্রষ্টা বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিব। ৭’মার্চের ভাষন পৃথিবীর ইতিহাসে বর্তমান সময় পর্যন্ত একজন অবিস্মরণীয় জাতীয় নেতা কর্তৃক একটি জাতির মুক্তি ও জাগরণের শ্রেষ্ঠ কাব্য। অনেকেই আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ ভাষনের সাথে ৭ মার্চের ভাষনকে তুলনা করেন। কিন্তু বিশ্বের বোদ্ধা রাজনীতি বিজ্ঞানীরা সেটি গ্রহণ করছেন না। ৭মার্চ’৭১ সকালে নিয়ম মাফিক বঙ্গবন্ধু বাড়ির অভ্যন্তরে প্রাত:ভ্রমণ, প্রিয় পোষা কবুতরকে খাওয়ানো, বাড়ির কর্মচারীদের সাথে কুশল বিনিময়, প্রত:রাশ করা, নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলা কিছুই বাদ ছিলনা।
প্রসঙ্গ জলাবদ্ধতা : নাগরিক জিজ্ঞাসার জবাব কে দেবে
॥ বিজন সেন ॥
এবার কি কিছু হবে? প্রশ্নটি শহরবাসীর, পৌরসভার নাগরিকদের। প্রশ্নটি দীর্ঘ সময়ের জলাবদ্ধতার সংকট নিয়ে। মিশ্র শ্রেণীর নাগরিকের শহর মাইজদী। শহর বলতে পৌর এলাকার সবটুকু। এর বাইরেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, আবাসিক এলাকা, হাট বাজার, শিল্প এলাকা। যার অবস্থান শহরতলীতে। আকাশে যখন মেঘের আনাগোনা শুরু হয়, তখনই পিলেচমকে ওঠে পৌর নাগরিকদের। প্রশাসন, বিচারালয়, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবাসিক এলাকা, বস্তিÍএলাকা, অফিসপাড়া, কারাগারের বন্দীমানুষ, হাসপাতালের রোগী, ডাক্তার, ব্যবসায়ী চাকুরে, শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের মানুষ, কোমলমতি শিশু, কারো উৎকন্ঠা থেকে নিস্তার নেই। আর এই উৎকন্ঠার কারণ শহর ও শহরতলীর দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা।
তথ্য অধিকার আইন করা সকরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ: জেলা প্রশাসন, বিভাগ সমূহ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণ বয়ে আনবে যদি...
॥ মামুন চৌধুরী ॥
হরিলাল দেবনাথ পেশায় স্কুল শিক্ষক। বদলির জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন উবর্ধতন কর্তপক্ষের নিকট কিন্তুু কয়েক মাস ঘুরে যখন দিশেহারা তখন তিনি সাংবাদিকদের নিকট অনুরোধ করেন সহায়তার। সংসার সন্তানাদি নিয়ে তিনি বিপাকে বদলি না হলে সন্তানদের লেখাপড়া ও জীবন যাপন ব্যাহত হবে।
হরিলাল জানতেন না তিনি নিজেও আবেদন করে জানতে পারতেন কি অব¯হায় আছে তার আবেদনের কাগজগুলো। সবার জানার অধিকার এখন সরকার নিশ্চিত করেছে তথ্য অধিকার আইন পাশ করে। তথ্য অধিকার আইন শুধু সাংবাদিকদের উপকারে আসবে না, নাগরিক হিসেবে সবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে পাশাপাশি সরকারি বেরসকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহতা, স্বচ্ছতা এবং গতিশীল আধুনিক সমাজ কাঠামোর দিকে নিয়ে যাবে। যদি ¯হানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সরকার এবং এনজিও এই আইনের সুবিধা সমূহ সাধারণ মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়।
 লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে...
॥ জামাল হোসেন বিষাদ ॥
আজ আমার লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে। সাধীনতা সংগ্রামের চার দশক শেষে আমার বাংলার বীর সেনানীদের এমন দ্বীনহীন অসম্মানজনক বিদায়ে ভাষাহীন যন্ত্রণায় হৃদয়টা দুমড়ে মুষড়ে যায়। এমন বিজয়, এমন দেশ কি লালিত হয়েছিলো অকুতভয়, দেশপ্রেমিক সবস্ব ত্যাগি জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্বপ্নে? সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা কি জীবন সায়াহ্নে তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে পারেনা? স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবনবাজী রাখা সূর্য্য সন্তানেরা কি অনাদর অবহেলা আর অপমান নিয়েই কি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করবেন?
 জয়তু ওবায়দুল কাদের
অবশেষে ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী হলেন। তাঁর মন্ত্রী হওয়া নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিলো।
গতকাল ২৮ নভেম্বর বঙ্গভবনে তিনি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ড. হাসান মাহমুদের সঙ্গে নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের বৃহত্তর নোয়াখালীর কেউ পুর্নাঙ্গ মন্ত্রী হলেন। উপচে পড়া মানুষের প্রত্যাশার আলো স্ফুরণ ঘটেছে। সর্বস্তরের মানুষের আশা-আকাঙ্খা আজ পুর্ণতা পেলো।
ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী হওয়ার খবর প্রথম স্যাটেলাইট চ্যানেল আই থেকে পাওয়া যায়। খবরটা শুনে মন উল্লসিত হয়ে উঠে। একজন নোয়াখাইল্লা হিসেবে মনটা ভরে যায়। তখনই মোবাইলে তাঁকে ম্যাসেজ দিলাম, ‘আপনার এই খবর বৃহত্তর নোয়াখালী মানুষদের মাথা উঁচু করেছে।’
 বাঙালীর মুজিবর : শেখসাহেব থেকে বঙ্গবন্ধু অতঃপর জাতির জনক
॥ বিজন সেন ॥
আমাদের অপস্মৃত হলে চলবেনা সেই বারভূ্ঞাঁর বাংলা থেকে শেখ মুজিবের বাংলাদেশের ইতিহাসের নদীটি কখনো সরলভাবে এগোয়নি, শান্ত ভাব ছিলনা এর পানির প্রবাহে। খরস্রোতা নদীর মত দ’ুকূল ভেঙ্গে পুরাতন অযোগ্য নেতৃত্ব ছুড়ে ফেলে ইতিহাসের নদী নতুন নেতৃত্ব তৈরি করেছে। ইতিহাস নেতা তৈরি করে না নেতার সৃষ্টি হয় ইতিহাসের প্রয়োজনে, সে কথা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, নেতা কি ইতিহাসকে সঠিক পথে ধাবমান করতে পেরেছেন না নেতার ব্যর্থতা বা পদস্খলন হয়েছে, তার বিচার ইতিহাসের নিরিখে হয়ে থাকে। আবার কোন কোন নেতা নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে সফল হয়ে গ্রীক ট্রেজেডির নায়ক হয়েছেন।
যদি এমন হতো-তবে কেমন হতো
॥ মহিউদ্দিন পাটোয়ারী (বেলাল) ॥
‘কইতে বক্সআলী, লিখতে হাড়াহাড়ী’ গ্রেটার নোয়াখালীর কথা দিয়ে শুরু করার একটা কারণ হয়তো আছে। বড় বড় কথার বুলি সবাই বলতে পারি, বাস্তবে পরিনত করাই কঠিন হয়ে পড়ে। বড় বড় রাজনৈতিক নেতারদের মঞ্চে দেওয়া ওয়াদা যদি ক্রিয়দাংশ বাস্তবে হতো দেশ বহু আগে আরো উন্নতি করতে পারতো।
অনেক সময় তা করা সম্ভব হয়না পরিবেশ, সামাজিক-পারিপার্শ্বিক, আর্থিক ও ক্ষমতার উপযুক্ত ব্যবহার না করার ওপর। যদি তাই হতো তাহলে দেশে হয়তো মারামারি. কাটাকাটি, খুন, ধর্ষণ, হত্যা, মামলা মোকাদ্দমা এনেক কম হতো। পৃথিবীর শুরু থেকেই ক্ষমতাদর ও নিরীহ লোকদের মধ্যে পার্থক্য হয়ে আসছে, শক্তিশালী লোকেরা নিরীহহদের শাষন ও শোষন করে আসছে এবং এটাই হবে পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত।
পাঠ প্রতিক্রিয়া : শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে বাণিজ্য মেলা বন্ধ ও খেলোয়াড়দের মাঠ ব্যবহারে মানববন্ধন : নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের ক্ষমতা প্রকাশ!
॥ হাবীব ইমন॥
নোয়াখালীর খেলোয়াড়রা ২৫ এপ্রিল একটি মানববন্ধন করেছেন। শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে বাণিজ্য মেলা বন্ধ ও খেলোয়াড়দের মাঠ ব্যবহারের দাবিতে এ মানববন্ধন। এ মানববন্ধন যতোটা আলোচিত তার চেয়ে এ মুহূর্তে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলামের প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি আলোচিত।
জেলা প্রশাপ্রসক এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, ‘আমি ডিসি, আমার অনুমতি ছাড়া খেলোয়াড়রা মানববন্ধন করার সাহস পায় কোত্থেকে? আমি ডিসি! আমি যদি মাঠ নাও দেই তাহলেও তারা এটা করতে পারে না।’ (সূত্র : আমারসংবাদ.কম)।
এ সংবাদটি পরদিন দেশের বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। তার এ প্রতিক্রিয়া আমার মতো অনেককেই আহত করেছে। উত্তেজনা- উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ উত্তাপকে নোয়াখালীর ক্রীড়াঙ্গনে অশনি সংকেত মনে করা যায়।
 মুক্তিযুদ্ধে দৌলতপুর
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একটি বীরত্বগাঁথা গ্রামের নাম চাটখিল থানা পরকোট ইউনিয়নের দৌলতপুর। আমি সে গ্রামের মানুষ বলে অনেক গর্ববোধ করি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশের এমন কোন অঞ্চল নেই যেখানে পাকিস্তানি বাহিনী হানা দিয়ে নির্বিচারে হত্যা, লুন্ঠন, বাড়িঘর পোড়ানো, ধর্ষন করেনি। একমাত্র ব্যতিক্রম চাটখিল থানার ১১নং পুল থেকে রামগঞ্জ থানার কচুয়া অঞ্চল। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় এই এলাকাটি শক্র মুক্ত ছিল। একদিন পাকিস্তানি বাহিনী চাটখিলের ১১নং পুলের কাছে খুব সকালে এমবোশ করে। মেশিনগান পশ্চিম দিকে তাক করে পজিশান নিলো। কিন্তু পশ্চিম দিকে দশঘরিয়ার দিকে এগিয়ে এলো না।
এই দৌলতপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ক্যাম্প ছিল। ফলে দৌলতপুর গ্রামের এমন কোন বাড়ি নেই যেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যাবে না। আমি তখন পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র। আমি দশ-এগারো বছরের বালক ছিলাম, তাই মুক্তিবাহিনীতে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। এটা আমার সারা জীবনের দুঃখ। ঢাকার রাজারবাগের পুলিশ লাইনের পাশে উত্তর শাহাজানপুরে আমাদের ভাড়া বাসা। পাক বাহিনীর তীব্র আক্রমনে আমরা ঢাকায় থাকতে না পেরে গ্রামের বাড়িতে চলে আসি।
 বিরাণ বিবেকের পাঠশালায় নূতন ছাউনি তুলেছেন পরাক্রম- একরাম।
॥ জামাল হোসেন বিষাদ ॥
সত্যিকার জনমানুষের কল্যাণে নিবেদিত হোক আমাদের রাজনীতি। আমাদের স্ব স্ব অবস্থানের আন্তরিক প্রচেষ্টা আর দেশ ও মানুষের প্রতি প্রগাঢ় মমত্ববোধ আমাদের নিয়ে যাবে সেই স্বপ্নের সীমান্তে যেখান থেকে নূতন বুনন শুরু হবে। প্রেরণার অনন্ত স্পৃহা বিচ্ছুরিত হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। অনুকরণের অদম্য উদাহরণ লোকবাণীতে পরিণত হবে ঋষি-মনিষির মত। এমন কামনা প্রতিনিয়ত আপনার জন্য - জননন্দিত নেতা, জনমানুষের নেতা একরামূল করিম চৌধুরী।
স্তুতি বাক্য নয়, এমন বিরুদ্ধ সময়ে তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে নোয়াখালীর বিস্তৃর্ণ জনপদ, লোকালয় ঘুরে আপনি যে মানুষগুলোর হৃদয়ে আশার সঞ্চার করেন তা কেবল তাকে প্রণোদিত করেনা, অসংখ্য সুবোধ মানুষকে আন্দোলিত করে।
|