Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬,

আমাদের কৃষি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিস্ময়কর অবদান

এপ্রিল ৬, ২০১৫, ০৬:৩১ এএম


আমাদের কৃষি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিস্ময়কর অবদান

  দীর্ঘ ৮ বছর বিরতিহীনভাবে কৃষিতে ভুর্তুকী দিয়ে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বানিজ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন আলু রপতানি করবে সরকার। পিঁয়াজ আমাদেরকে বেশ সংকটে ফেলে দেয়। রমজানে ভালমাত্রায় চাহিদা বেড়ে যায় পিঁয়াজের। এ বছর পিঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে যা আমাদের জন্য বেশ গর্বের। সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল তার চেয়ে অনেক বেশী উৎপাদন হয়েছে। গতবছর আবাদ হয়েছিল ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এবছর সে মাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৯২ হাজার হেক্টর জমিতে। এক বছরের ব্যবধানে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ বেশী হয়েছে। সেটা আমাদের জন্য কত যে আনন্দের তা বলে বোঝানো যাবেনা। এ বছর উৎপাদন এর লক্ষ্য মাত্রা ১৯ লাখ মেট্রিক টন। এ ভাবেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে, সম্ভাবনার দিকে। এ সবের মূলে আছে প্রধানমন্ত্রীর ভুর্তকী দেওয়ার মানসিকতা।

প্রিয় পাঠক, চলুন যায় ঘুরে আসি অতিত থেকে, দেখে আসি আমাদের কৃষির আদি অবস্থার কিয়দংশ চিত্র। সেখান থেকে আজ আমরা প্রকৃত কৃষি প্রধান দেশে রূপান্তরিত হয়েছি। পাট, আখ এবং চা ছিল আমাদের প্রধান অর্থকরি ফসল। যা দিয়ে এ দেশের কোটি কোটি কৃষক মিটিয়েছে দৈনন্দিন চাহিদা। কিন্তু কালের বিবর্তনে ১৯৭৪ সালের পর থেকে ধ্বস নামে পাটে। চা এবং আখের আবাদ থাকলেও চাষিরা খুব একটা লাভবান হচ্ছে না। কিন্তু তাই বলে ষোল কোটি মানুষ না খেয়ে আছে? মোটেই না। তা হলে চলছে কীভাবে? প্রশ্নতো এসেই যায়। হ্যাঁ পাঠক প্রশ্নটি বড়ই যুক্তিযুক্ত। কৃষি প্রধান দেশ হলেও এক সময় কৃষিতে ছিল না কোন সাফল্য, ছিলনা কৃষিতে বিপ্লব, ছিল না কৃষকের ঘরে ভাত। বছরে একবার হতো আমন ধান, একবার হতো আউস ধান। তা দিয়ে চলত না  সংসার। বর্ষাকালে কৃষক পড়তো আকালের মধ্যে। গম, ভুট্টার কোন নাম গন্ধও ছিল না। প্রান্তিক ফসলের মধ্যে ছিল ছোলা, মশুরি, খেসারি, মুগ, মাস কলাই, অড়হর। পাট ছিল প্রধান অর্থকরি ফসল। পাঠ বিক্রী করে কিছু নগদ টাকা চাষীরা পেলেও তা দিয়ে বার মাসের চাহিদা, রোগ শোক, চাষাবাদের কীটনাশক, বীজ সংগ্রহ করতে শেষ হয়ে যেত। অভাব লেগেই থাকত নিত্য বারো মাস। বানিজ্যিকভাবে কোন সবজি আবাদ ছিল না। টমেটা, ঢ্যাঁড়শ, কপি, চিচিঙ্গা, আলু ছিল শীতকালীন ফসল। যা আবাদ হতো নিজেদের খাওয়ার জন্য। বানিজ্যিকভাবে তা উৎপাদন হতোনা। ফলে আসত না হাতে নগদ অর্থ। খাওয়াদাওয়ায় ছিল না বিলাসিতা। জীবন জীবিকায় আষ্টে পিষ্টে জড়িয়ে ছিল অভাব। মাছের আবাদ হতোনা বানিজ্যিকভাবে। প্রকৃতগতভাবে বিল বাওড়ের মাছ ধরে  খেতো সকলে।

অনেকে পুকুরে মাছের আবাদ করতেন তাও নিজেদের জন্য। বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন করতে হবে এমন চিন্তাধারা ছিলনা মোটেও। মাছ বিক্রী করে যে লাখোপতি হওয়া যায়, অভাবকে দূরে সরানো যায় এমন চেতনাও ছিল না। ছিল না আধুনিক চাষাবাদের ব্যবস্থা। চিরাচরিত লাঙল জোয়াল আর রুগ্ন হালের বলদ ছিল কৃষকের পূঁজি। কোনক্রমে কারো একটি গরু মারা গেলে বিপাকে পড়ে যেতেন চাষী। নগদ টাকায় সংগে সংগে একটি হালের গরু ইচ্ছে করলেই কেউ কিনতে পারেনি। ছিলনা উন্নত চাষ পদ্ধতি, ছিল না সারের সরবরাহ, ছিলনা তেমন ভাল বীজ। এখন সে সব যেন ইতিহাস এবং অতীত। বর্তমানে বলা যায় বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কারণ ২০১৪ ডিসেম্বর থেকে  নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল রফতানি শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয় আরো উদ্বৃত্ত আছে ৪ হাজার মেট্রিক টন চাল। দেশ উন্নত করতে হলে বাঁচাতে হবে চাষীকে। চাষী একটি উন্নয়নশীল দেশের প্রাণ। চাষী না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। এই চেতনাবোধ থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা ৮ বছর কৃষিখাতে ভূর্তুকি দিয়ে আসছেন। তারই ফলশ্রুতিতে আজ আমরা যেমন রপতানীর খাতায় নাম লিখিয়েছি তেমনি জয় করেছি অভাবকে। ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মধ্য প্রাচ্য সহ ইউরোপের অনেক দেশেই রফতানি হচ্ছে হাজার হাজার কেজি সবজি, মাছ, মাংস। ১৯৮০ সাল থেকে বানিজ্যিক ভিত্তিতে এদেশের চাষীরা প্রথম আবাদ শুরু করেন টমেটা। তখন থেকেই চাষীদের কিছুটা অভাব মোচন হতে থাকে।

 ১৯৯৬ থেকে তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় থেকে এ দেশে শুরু হয় কৃষি বিপ্লব। সার এবং কীটনাশকের যে সংকট ছিল তা চিরতরে দূর হয়ে যায়। আবিস্কার হতে থাকে উচ্চ ফলনশীল ধান, সবজি, ফল-মূল। কৃষির বন্যায় বর্তমানে দেশ ভাসছে। আমরা অভাবকে জয় করে বর্তমানে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি। বৃষ্টির উপর ভরসা করে এখন কোন চাষী বসে থাকেনা। ১লা বৈশাখের বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকত চাষিরা। বৃষ্টি হলে জমিতে জো হতো এবং পরদিন সকালে নরম মাটি চষে বপন করা হতো ধান। এখন সেই অপেক্ষায় কেউ থাকেনা। নেই আমন নেই আউস ধান। এখন কত রকমের যে উন্নত জাতের ধান তা বলে শেষ করা যাবেনা। বিঘা প্রতি দুই মন তিন মন ধানের যুগ শেষ। এখন বিঘা প্রতি ফলে ৪০ মন, ৬০ মন। এখন সাক-সবজি উৎপন্ন হয় বার মাস সেচের পানি দিয়ে।

তরমুজের আবাদ বিলুপ্ত হয়ে যায় ১৯৭২ সালের পর থেকে। বানিজ্যিক ভিত্তিতে তরমুজের আবাদ শুরু হয় ৯০ এর দশক থেকে। বর্তমানে তরমুজ একটি  অন্যতম মৌসুমি ফল। গরমের দিনে বাজারে আসে সাধারণতঃ চলতে থাকে মে মাস ভর। তবে বর্ষাতেও কিছু কিছু মজুদ তরমুজ বাজারে পাওয়া যায় চড়া মূল্যে। সাধারণের জন্য তা সংগ্রহ করা বা খরিদ করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সে দিক টা খেয়াল রেখে বার মাস তরমুজ পাওয়া যাবে এবং বেশ স্বল্প মূল্যে, পাশাপাশি দূর হবে কৃষকের অভাব এমন চিন্তা মাথায় রেখে কৃষি ক্ষেত্রে অভাবনীয় বিপ্লব ঘটিয়েছে এ্যাগ্রোল্যান্ড ইন্ট্রিগেটেড ফার্ম নামক একটি কষিজাত পন্য উৎপন্ন কোম্পানী। এই প্রতিষ্ঠানটি কৃষকের কল্যাণে যে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে তা জনবহুল দেশের জন্য যেমন যুগোপয়োগী তেমনই সময়োপযোগী।  বাংলাদেশের কৃষিতে ভূমিকা রেখে যেতে বদ্ধপরিকর শিক্ষিত, মেধাবী এই চাষীদ্বয়। বারমাস আবাদ হবে এমন ফসল উৎপাদনের চিন্তা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধীকারি তথাকথিত চাষাবাদকে পাশ কাটিয়ে আরো কীভাবে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ক’রে বার মাস চাষ করা যায় তা নিয়ে মতে ওঠেন গবেষণায়। নিরন্তর গবেষণা করে  পেয়ে যান উপযুক্ত বীজ তলার মাধ্যম কোকোপিট এবং সর্বংসহা ফসলÑ বার  মেসে তরমুজ, মুখোরোচক মিষ্টি ভূট্টা, হানি ডিউ, বরোমেসে লাউ। তাদের আমদানীকৃত কোকোপিট ও সীড লিং ট্রে ব্যবহারের মাধ্যমে  অনাকাঙ্খিত সমস্যাকে বিদূরিত করে রোগমুক্ত  চারা তৈরীতে অনবদ্য ভূমিকা রাখতে শতভাগ সক্ষম হয়েছে। চারা রোপণের পর চারাকে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে ব্যবহার করা হয় মালচিং ফিম যা অতিরিক্ত তাপ, ঠান্ডা, আদ্রতা এবং আগাছা থেকে চারাকে রক্ষা ক’রে থাকে ঠিক যেন স্নেহময়ী মায়ের মত। বালাই থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয় ইনসেক্ট প্রটেক্টিং নেট।  কৃষি জগতে কৃষকের ভাগ্য গড়তে উন্মোচিত হলো নতুন দিগন্ত। বাংলাদেশের কৃষি জগতে যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ্যাগ্রোল্যান্ড ইন্ট্রিগ্রেটেড ফার্ম অনন্য অবদান রেখে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এই ফার্মের জনক তথা প্রতিষ্ঠাতা এবং মূল উদ্যোক্তা চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট আমদানী-রপ্তানীকারক এ.কিউ.এম. ফিরোজুল হক (রিপন) ও  আলিমুজ্জাামান মিল্টন। কিছু করতে হলে জাতীর কল্যাণে করাই হচ্ছে মহত্বের পরিচয়। আমরা চায় কৃষি প্রধান সোনার বাংলা গড়তে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকের জন্য যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ কেরেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। কৃষকের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি হওয়াতে আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। সেই সাথে ধন্যবাদ তাদেরকে যারা লেখাপড়া শেষ করে উন্নত চাষে নিজেদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।