ইমাদুল হক প্রিন্স,
আমারসংবাদডটকম, ০৮ জুন-১২ :
ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর উপজেলাধীন বড়ইয়া ইউনিয়নের ভাতকাঠী গ্রামে ৫৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাতকাঠী আদাখোলা দাখিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফলাফলের দিক দিয়ে দাখিল ও জুনিয়র দাখিল পরীক্ষায় রাজাপুর উপজেলার শ্রেষ্ঠ হওয়ার মর্জাদা অক্ষুন্ন রেখে চলেছে। এখানে ১ম শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ানো হয়। মাদ্রাসাটির শুধু অফিস কক্ষটি আধাপাকা টিনসেড ঘর। শ্রেনী কক্ষের জন্য ৩টি কাঁচা কাঠের ফ্রেমযুক্ত টিনসেড ঘর যাহাতে ১১টি কক্ষ আছে। মাদ্রাসাটির সন্মুখে একটি সুন্দর খেলার মাঠ রয়েছে। মাদ্রাসাটি ১৯৫৭ সালের ১লা জানুয়ারী প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : ১৯৫৬ মতান্তরে ৫৭ সালে অত্র মাদ্রাসাটি স্থানীয় কতিপয় সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগীদের প্রচেষ্টায় একখানা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাহা সুনামের সাথে পরিচালিত হয়। ঐ ফোরকানিয়া মাদ্রাসা থেকে অধ্যয়ন করে দেশে বহু আলেমে দ্বীন তৈরী হয়েছে। ১৯৭৬ সালে মরহুম মাওঃ আব্দুল হাকিম স্থানীয় সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগীদের নিয়ে জরুরী বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দাখিল মাদ্রাসা হিসেবে নির্মানের মত ব্যক্ত করায় উপস্থিত সকলে তার কথায় সাড়া দেয়। হাজী এরফান উদ্দীন মোল্লার আর্থিক সাহায্য ও মাদ্রাসার নামে জমি দলিল করে দেয়ায় ১লা জুন ১৯৭৬ইং সালে মাদ্রাসাটি দাখিল পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভ করে।
সমস্যা ও সময়ের দাবি : সিনিয়র মাদ্রাসার উপযুক্ত এ মাদ্রাসাটি দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আধুনিক ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া স্বত্তেও সরকারের কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। কোন সরকারই মাদ্রাসাটির উন্নয়নে নযর দেয়নি বিধায় এটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রেশমা, স্বর্ণা, হাফিজা, আয়শা, শিল্পী, নাদিরা, মারুফা, কাজল, বিথী, রাসেল, হানিফ ও তামিম, ৯ম শ্রেনীর নাঈম ও মহসিন, ৮ম শ্রেনীর বসির, মঈন, আব্বাস, ইদ্রিস, তামিম, আছমা, রুবিনা, মানছুরা লামিয়া, রেশমা ও নাজমিন দুঃখের সহিত বলেন আমাদের দেশে প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিজড়ে মাদ্রাসাটির কয়েকটি ঘর পরে গেলেও কয়েক বছর হলো সরকারের পক্ষ থেকে এগুলো নতুন করে নির্মানের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই এখানে রয়েছে প্রচন্ড শ্রেণীকক্ষ সংকট, মাদ্রাসাটির ৫শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র দুটি টয়লেট তাও আবার ব্যবহারের অনুপযোগী। শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোন আবাসন ব্যবস্থা নেই, নেই কোন লাইব্রেরী, কমন রুম ফলে আমরা ক্লাসের বিরতীতে বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষার্থীরা দেশের সরকার ও বিত্তবানদের মাদ্রাসাটির উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
প্রতিভা বিকাশের অঙ্গন : এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছেন কয়েকজন অভিজ্ঞ মুফতি, মুহাদ্দিস, বাংলা ও ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক। এখানে ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি শুদ্ধ সংস্কৃতি ও সৃজনশীল মানষিকতা বিকাশের সহায়ক হিসেবে রয়েছে রেড ক্রিসেন্ট, ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, গণিত ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, ইসলামী সংগীত ক্লাবসহ নানা কর্মকান্ড। এছাড়াও মাদ্রাসাটির নিয়মিত মিলাদ মাহফিল, বার্ষিক ক্রিড়া, আন্ত: স্কুল-মাদ্রাসা ক্রিড়া টুর্নামেন্ট, বিতর্ক উৎসব, কবিতা পাঠের আসর, শিক্ষা সফরসহ বাৎসরিক কর্মকান্ড গুলো নিয়মিত পালিত হয়। তাই মফস্বলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রিয় ঠিকানায় পরিণত হয়েছে এ স্বনামধন্য ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী- অত্র মাদ্রাসাটিতে ছাত্র আছে পাঁচ শতাধিক এবং শিক্ষক আছেন মাত্র ১৩জন। কর্মচারী রয়েছেন নাইট গার্ড-একজন ও পিয়ন-একজনসহ মোট ২জন।
সুপারের কথাঃ- এই ঐতিহ্যবাহী আধুিনক ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মাওলানা মোঃ ফখরুল ইসলাম অত্যন্ত দক্ষ এবং কর্মঠ, গত বছর ২ মার্চ এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রধান (সুপার) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে মাদ্রাসাটির উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন এবং যথাযথ ভাবে একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রুপ দেয়ার জন্য আপ্রান চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুপার বলেন, মাদ্রাসাটি দক্ণিাঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রাচীন ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কয়েকবছর যাবত প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে ফলাফলে শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করে চলেছে। এখানের ছাত্ররা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সরকারী, আধা সরকারী, স্বায়তাবশাসিত ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে মাদ্রাসাটির সুনাম বয়ে বেড়াচ্ছে।
মাদ্রাসাটি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেসিনের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মাদ্রাসাটির উন্নয়নে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন মাদ্রাসাটির কক্ষ ও ঘরগুলির মেরামত ও নতুন একটি ভবন নির্মানসহ অন্যন্য সমস্যাগুলো দূর করা হলে এটি দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে। পরিশেষে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীর কলকাকলিতে সদা মুখরিত এই ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার মনোরম ক্যাম্পাস।
আমারসংবাদডটকম, ০৮ জুন-১২ :
ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর উপজেলাধীন বড়ইয়া ইউনিয়নের ভাতকাঠী গ্রামে ৫৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাতকাঠী আদাখোলা দাখিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফলাফলের দিক দিয়ে দাখিল ও জুনিয়র দাখিল পরীক্ষায় রাজাপুর উপজেলার শ্রেষ্ঠ হওয়ার মর্জাদা অক্ষুন্ন রেখে চলেছে। এখানে ১ম শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ানো হয়। মাদ্রাসাটির শুধু অফিস কক্ষটি আধাপাকা টিনসেড ঘর। শ্রেনী কক্ষের জন্য ৩টি কাঁচা কাঠের ফ্রেমযুক্ত টিনসেড ঘর যাহাতে ১১টি কক্ষ আছে। মাদ্রাসাটির সন্মুখে একটি সুন্দর খেলার মাঠ রয়েছে। মাদ্রাসাটি ১৯৫৭ সালের ১লা জানুয়ারী প্রতিষ্ঠিত হয়।প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : ১৯৫৬ মতান্তরে ৫৭ সালে অত্র মাদ্রাসাটি স্থানীয় কতিপয় সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগীদের প্রচেষ্টায় একখানা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাহা সুনামের সাথে পরিচালিত হয়। ঐ ফোরকানিয়া মাদ্রাসা থেকে অধ্যয়ন করে দেশে বহু আলেমে দ্বীন তৈরী হয়েছে। ১৯৭৬ সালে মরহুম মাওঃ আব্দুল হাকিম স্থানীয় সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগীদের নিয়ে জরুরী বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দাখিল মাদ্রাসা হিসেবে নির্মানের মত ব্যক্ত করায় উপস্থিত সকলে তার কথায় সাড়া দেয়। হাজী এরফান উদ্দীন মোল্লার আর্থিক সাহায্য ও মাদ্রাসার নামে জমি দলিল করে দেয়ায় ১লা জুন ১৯৭৬ইং সালে মাদ্রাসাটি দাখিল পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভ করে।
সমস্যা ও সময়ের দাবি : সিনিয়র মাদ্রাসার উপযুক্ত এ মাদ্রাসাটি দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আধুনিক ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া স্বত্তেও সরকারের কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। কোন সরকারই মাদ্রাসাটির উন্নয়নে নযর দেয়নি বিধায় এটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রেশমা, স্বর্ণা, হাফিজা, আয়শা, শিল্পী, নাদিরা, মারুফা, কাজল, বিথী, রাসেল, হানিফ ও তামিম, ৯ম শ্রেনীর নাঈম ও মহসিন, ৮ম শ্রেনীর বসির, মঈন, আব্বাস, ইদ্রিস, তামিম, আছমা, রুবিনা, মানছুরা লামিয়া, রেশমা ও নাজমিন দুঃখের সহিত বলেন আমাদের দেশে প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিজড়ে মাদ্রাসাটির কয়েকটি ঘর পরে গেলেও কয়েক বছর হলো সরকারের পক্ষ থেকে এগুলো নতুন করে নির্মানের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই এখানে রয়েছে প্রচন্ড শ্রেণীকক্ষ সংকট, মাদ্রাসাটির ৫শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র দুটি টয়লেট তাও আবার ব্যবহারের অনুপযোগী। শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোন আবাসন ব্যবস্থা নেই, নেই কোন লাইব্রেরী, কমন রুম ফলে আমরা ক্লাসের বিরতীতে বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষার্থীরা দেশের সরকার ও বিত্তবানদের মাদ্রাসাটির উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
প্রতিভা বিকাশের অঙ্গন : এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছেন কয়েকজন অভিজ্ঞ মুফতি, মুহাদ্দিস, বাংলা ও ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক। এখানে ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি শুদ্ধ সংস্কৃতি ও সৃজনশীল মানষিকতা বিকাশের সহায়ক হিসেবে রয়েছে রেড ক্রিসেন্ট, ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, গণিত ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, ইসলামী সংগীত ক্লাবসহ নানা কর্মকান্ড। এছাড়াও মাদ্রাসাটির নিয়মিত মিলাদ মাহফিল, বার্ষিক ক্রিড়া, আন্ত: স্কুল-মাদ্রাসা ক্রিড়া টুর্নামেন্ট, বিতর্ক উৎসব, কবিতা পাঠের আসর, শিক্ষা সফরসহ বাৎসরিক কর্মকান্ড গুলো নিয়মিত পালিত হয়। তাই মফস্বলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রিয় ঠিকানায় পরিণত হয়েছে এ স্বনামধন্য ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী- অত্র মাদ্রাসাটিতে ছাত্র আছে পাঁচ শতাধিক এবং শিক্ষক আছেন মাত্র ১৩জন। কর্মচারী রয়েছেন নাইট গার্ড-একজন ও পিয়ন-একজনসহ মোট ২জন।
সুপারের কথাঃ- এই ঐতিহ্যবাহী আধুিনক ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মাওলানা মোঃ ফখরুল ইসলাম অত্যন্ত দক্ষ এবং কর্মঠ, গত বছর ২ মার্চ এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রধান (সুপার) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে মাদ্রাসাটির উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন এবং যথাযথ ভাবে একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রুপ দেয়ার জন্য আপ্রান চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুপার বলেন, মাদ্রাসাটি দক্ণিাঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রাচীন ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কয়েকবছর যাবত প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে ফলাফলে শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করে চলেছে। এখানের ছাত্ররা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সরকারী, আধা সরকারী, স্বায়তাবশাসিত ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে মাদ্রাসাটির সুনাম বয়ে বেড়াচ্ছে।
মাদ্রাসাটি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেসিনের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মাদ্রাসাটির উন্নয়নে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন মাদ্রাসাটির কক্ষ ও ঘরগুলির মেরামত ও নতুন একটি ভবন নির্মানসহ অন্যন্য সমস্যাগুলো দূর করা হলে এটি দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে। পরিশেষে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীর কলকাকলিতে সদা মুখরিত এই ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার মনোরম ক্যাম্পাস।




