এপ্রিল ১০, ২০১৫, ০৭:০৪ এএম
মানবতাবিরোধী অপরাধের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না, তা জানতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করেছেন দুজন ম্যাজিস্ট্রেট।
তাঁরা হলেন মাহবুব জামিল ও তানভীর আজিম। শুক্রবার সকাল ১০ দিকে তাঁরা কারাগারে প্রবেশ করেন। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ওই দুই ম্যাজিস্ট্রেট কারাগার থেকে বের হন। এ সময় তাঁরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, জেল সুপার ও দুজন ম্যাজিস্ট্রেট কামারুজ্জামানের কাছে তাঁর মতামত জানতে চাইবেন। মতামত জানার পর তিনি যদি প্রাণভিক্ষা না চান, তাহলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে আর কোনো বাধা থাকবে না। যদি প্রাণভিক্ষা চেয়ে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে করা আবেদন নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে না।
২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত বছরের ৩ নভেম্বর তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। চলতি বছর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এর পর ১৯ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পৌঁছায়।
সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় কামারুজ্জামানের পক্ষে রিভিউ আবেদন করা হয়। কিন্তু তা-ও খারিজ করে দেন আদালত।
২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২ আগস্ট তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী সাতটি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১২ সালের ৪ জুন কামারুজ্জামানের বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুটিতে মৃত্যুদণ্ড, দুটিতে যাবজ্জীবন ও একটিতে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।