Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬,

প্রতীক লড়াইয়ে জয় পেলেন যাঁরা

এপ্রিল ১০, ২০১৫, ০১:১২ পিএম


প্রতীক লড়াইয়ে জয় পেলেন যাঁরা

 ভোটযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই লড়াই হয়ে গেল প্রতীক নিয়ে। পছন্দের প্রতীক পেতে মোটামুটি কাড়াকাড়ি পড়ে যায় তিন সিটির মেয়রপ্রার্থীদের মধ্যে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সাঈদ খোকন, উত্তরে আনিসুল হক ও আব্দুল্লাহ আল কাফি, চট্টগ্রামের মনজুর আলম ও আ জ ম নাছির উদ্দিন তাঁদের পছন্দের প্রতীক পেয়েছেন।

কখনো সমঝোতার ভিত্তিতে, কখনো বা লটারির মাধ্যমে পছন্দের প্রতীক জিতে নেন এসব প্রার্থী। একাধিক প্রার্থীর পছন্দের তালিকা থেকে নিজের পছন্দের প্রতীক পেয়ে বেশ খুশি তাঁরা।

ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ খোকন পছন্দের প্রতীক ইলিশ মাছ পেয়েছেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন ঢাকা সিটির প্রথম মেয়র। তিনি মাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে মেয়র হয়েছিলেন, বাবার প্রতীক পেয়ে খুশি তিনি।

পছন্দের  প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমার প্রয়াত পিতা মোহাম্মদ হানিফ মাছ মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। সেই স্মৃতি এবং আবেগ থেকে আমি ইলিশ মাছ প্রতীক নিয়েছি। আমি আশা করছি, তাঁর সন্তান হিসেবে আমাকেও তাঁর ইলিশ মাছে ভোট দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।’

খোকনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসও তাঁর পছন্দের প্রতীক হিসেবে ইলিশ মাছ চেয়েছিলেন। সঙ্গে টেবিল ঘড়ির কথাও বলেছিলেন তিনি। কিন্তু সাঈদ খোকন ইলিশ আর মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ‘টেবিল ঘড়ি’ জিতে নিলে অতিরিক্ত বরাদ্দ করা ১২টি প্রতীক থেকে লটারির মাধ্যমে তাঁর জন্য ‘মগ’ প্রতীকটি বরাদ্দ করা হয়।

ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হকের পছন্দের প্রতীক ছিল ‘টেবিল ঘড়ি’। এই সিটিতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত তাবিথ আউয়ালের পছন্দের তালিকায়ও ছিল এটি। শেষ পর্যন্ত আনিসুল হক লটারিতে ঘড়ি প্রতীক পেলে মেয়র পদের জন্য সংরক্ষিত ১২ প্রতীকের মধ্যে ‘বাস’ বেছে নেন তাবিথ আউয়াল।

এ ছাড়া বিএনএফ সমর্থিত এ ওয়াই এম কামরুল ইসলামের সঙ্গে লড়াই করে পছন্দের প্রতীক হাতি পেয়েছেন উত্তরের সমর্থিত সিপিবি সমর্থিত আবদুল্লাহ আল কাফি রতন।

জাতীয় পার্টির বাহাউদ্দিন আহমেদ, বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরী ও জাসদের নাদের চৌধুরী প্রতীক হিসেবে ইলিশ মাছের কথা মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করলেও তাঁরা তাঁদের পছন্দের প্রতীক পাননি। ইলিশ মাছটি লটারিতে বরাদ্দ পেয়েছেন কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

এদিকে চট্টগ্রামে পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে কমলালেবু প্রতীক পান মনজুর আলম। মেয়র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ এ প্রতীক দাবি করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা দুজনকে দুই মিনিটের মধ্যে সমঝোতা করতে বললে আবুল কালাম আজাদ প্রতীকটি মনজুর আলমের জন্য ছেড়ে দেন।

মোহাম্মদ মনজুর আলমের পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে প্রতীক নিতে আসেন তাঁর ছেলে মো. সরওয়ার আলম। প্রতিক্রিয়ায় সরওয়ার বলেন, ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী মনজুর আলম। আমরা কমলালেবু প্রতীক চেয়েছিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে কমলালেবু প্রতীক পেয়েছি।’

এরপর হাতি প্রতীকটির জন্য দাবি জানান আ জ ম নাছির উদ্দিন, সোলায়মান শেঠ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) আরিফ মইনুদ্দীন ও মো. আলাউদ্দিন চৌধুরী নামের একজন মেয়র প্রার্থী। একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা লটারির আয়োজন করেন। এতে জয়ী হয়ে হাতি প্রতীক পান আ জ ম নাছির উদ্দীন।

প্রতীক পেয়ে নাছির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার আম্মার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কোন প্রতীকটা নেব। তিনি আমাকে হাতি প্রতীক নিতে বলেছিলেন। আমার আম্মার কথাটা আমি রক্ষা করতে পেরেছি, এতে আমি খুব খুশি।’

তবে প্রতীক যাই হোক না কেন তা নিয়ে বেশ তোড়জোড়েই মাঠে নামার প্রত্যয় জানিয়েছেন প্রার্থীরা। এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে টিকে থাকেন কারা।

বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে তিন সিটিতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ। এঁদের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) উত্তরে ১৬ জন, দক্ষিণে ২০ জন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১২ মেয়র প্রার্থী। আগামী ২৮ এপ্রিল তিন সিটি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন।