বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে সরকারের সহায়তা চায় ই-ক্যাব

বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে সরকারের সহায়তা চায় ই-ক্যাব

ই-কমার্স খাতে বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকারের সহায়তা চেয়েছে ই-কমার্স এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। 

সোমবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে অনুষ্ঠিত ‌‍‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে এ সহায়তা চান সংগঠনটি। ই-ক্যাবের ৭ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডিজিটাল ই-কমার্সে আস্থা ও প্রবৃদ্ধির জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। করোনাকালীন সময়ে গত এক বছরে এ খাতে এক হাজার কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে বলে এ সময় জানানো হয়।

এছাড়া দেশের ই-কমার্স খাতের সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান। ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ও কাংঙ্খিত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং এ খাতের নানা ধরনের সমস্যা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায় ই-ক্যাব।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে ই-কমার্স ব্যবসার শুরু থেকে ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানে কাজ করে আসছে সংগঠনটি। গত বছর থেকে করোনাকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে ই-ক্যাব।

ই-ক্যাবের জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম শোভনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ই-ক্যাবের কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ নিয়েও কাজ করতে চায় সংগঠনটি। তাদের দাবি, মনিটারিং সেল দ্রুত কার্যকর করা, পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা দ্রুক ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা, এ খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।

ই-ক্যাবের সহ-সভাপতি সাহাব উদ্দিন শিপন বলেন, সূচনালগ্ন থেকে এই খাতের নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়ে উদ্যোক্তারা কাজ করে আসছে। যোগাযোগ ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে আমাদের যে পরিমাণ উন্নতি হয়েছে তারচেয়ে বেশী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ই-কমার্স খাতে। করেনাকালীন সময়ে সেবার মাধ্যমে যে আস্থা ও বিশ্বাস এখাতের উদ্যোক্তা ও কর্মীরা তৈরী করেছে সেটা কোনোভাবে নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। 

তিনি বলেন, এই মুহুর্তে নীতিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে এবং ক্রেতাদের সঠিক ও মানসম্পন্ন সেবা প্রদানের মাধ্যমে ক্রমাগত প্রবৃদ্ধিতে আমরা ফিরে আসতে পারব। ঝুকিপূর্ণ ব্যবসা পদ্ধতির কারণে শুধু যে ক্রেতা এবং মার্চেন্টরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা নয়। বরং নেতিবাচক বার্তাও ছড়িয়ে পড়েছে এতে করে এই খাতে যে বিদেশী বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, এখনো এই খাত লাভের মুখ দেখেনি। তারপরও একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গত দেড় বছর কর্মীরা সেবা দিয়ে গেছে। ই-বাণিজ্যের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতি ও দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে যে অবদান রেখেছে ই-কমার্সখাত তা অনস্বীকার্য।

নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এখাতের উদ্যোক্তারা কাজ করছে। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতে বিনিয়োগে অনীহা দেখায় বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। সঠিক সেবার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে মনে করেন সংগঠকরা । 

বক্তারা আরো বলেন, সরকারের সহযোগিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ এছাড়া ক্রেতাদের উচিৎ যেসব প্রতিষ্ঠান সঠিক সেবা দেয় তাদের কাছ থেকে সেবা গ্রহণের মাধ্যমে পাশে থাকা । তাহলে আমরা সকলে মিলে আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবো । বিক্রোতারা যেমন নিজেদের স্বার্থে সঠিক সেবা দিবে তেমনি ক্রেতারাও নিজেদের প্রয়োজনে ই - কমার্সের সেবা গ্রহণ করবে । ক্রেতা হলো যেকোনো ব্যবসার প্রাণ। ক্রেতাদের আস্থাই পারে ডিজিটাল কমার্সের ভবিষ্যৎ ঠিক করতে। আর এ কারণেই একটি বাণিজ্য সংগঠন হওয়া সত্বেও বিগত সময়ে ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাথে বিরামহীনভাবে কাজ করছে ই-ক্যাব। 

ই-ক্যাবের পরিচালক সাঈদ রহমান বলেন , ২/১ জনের জন্য পুরো ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে না। গ্রাহক ও মার্চেন্টদের শত শত কোটি টাকা আটকে আছে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে। এই অবস্থা হয়তো বেশীদিন থাকবেনা। কিন্তু এর কারণে ক্ষতিগ্রস্থ অনেক উদ্যোক্তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই শুধু নীতি পলিসি নয় আর্থিক বিনিয়োগ ও ঋণ সুবিধার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকা উচিৎ সরকারের। 

তিনি আটকে থাকা অর্থ দ্রুত ছাড় করার আবেদন জানান। ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে নতুন আইন ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি না করে প্রচলিত আইন সংশোধন ও মনিটরিং এর কথা বলা হয়। এছাড়া ডিজিটাল কমার্স সেল এর সক্ষমতা বাড়িয়ে, ইউবিআইডি, সেন্ট্রাল কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, সেন্ট্রাল লজিস্টিক ট্র্যাকিং প্লাটফর্ম তৈরী করার মাধ্যমে এই খাতে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের বিষয় তুলে ধরা হয়। বর্তমানে গেটওয়ে আটকে থাকা অর্থ ছাড়, ডিজিটাল মার্কেটিং ৩০% ভ্যাট বন্ধসহ অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে।

উল্লেখ্য ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-কমার্স এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ২০১৪ সাল থেকে ই-কমার্স খাতের উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আগামী দুই বছরে দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।

আমারসংবাদ/ইএফ