‘আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে’

umayer.j
সংগৃহীত

পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পুরো পৃথিবী সেজেছিল রঙিন সাজে। বেজে উঠেছিল আতশবাজির বাজনা। আনন্দ ভেসে উঠেছিল সব মানুষ। কিন্তু কারো আনন্দ যে কোনো কোনো সময় কারো জীবনের কান্না হয়ে যেতে পারে। একজন বাবা ইউসুফ রায়হানেরও তাই তাই হল।

আতশবাজির বাজনায় যখন পুরো দেশ আনন্দ উল্লাস করছে, সেই বাজনাতেই হৃদ স্পদন বন্ধ হয়ে গেল চার মাস বয়সী শিশু উমায়েরের, এমনটাই বলেন তার বাবা ইউসুফ রায়হান

গত ৩১ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন শনিবার (১ জানুয়ারি) শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

এর আগে, শিশুটির মৃত্যুর আগে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ইউসুফ রায়হান শিশুটির শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন; যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই পোস্টে শিশুটির বাবা লেখেন, ‘কী বিকট শব্দে আতশবাজি। আমার ছোট বাচ্চাটি এমনিতে হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুব আতঙ্কে রাত পার করছি।আল্লাহ তায়ালা আমাদের সন্তানদেরকে বুঝ দান করুক। দোয়া করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

umayer

উমায়েরের পরিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা। তার বাবা ‘মোহাম্মদী টেলিকম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমার ছেলে উমায়েরের জন্মের পর থেকেই হৃদরোগের সমস্যা ছিল। তার প্রায়ই শ্বাসকষ্ট হতো এবং শরীর ঘেমে যেত।’

‘এই ঘটনার আগে উমায়ের ১২ দিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এরপর হৃদরোগের সমস্যা থাকায় তাকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কিছুটা সুস্থবোধ করায় তাকে চারদিন পর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় নিয়ে আসি। এক সপ্তাহ পর আবারও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য বলা ছিল। সে সুবাদে আমাদের বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসককে দেখানোর কথা থাকলেও চিকিৎসক ব্যস্ত থাকায় শনিবার (১ জানুয়ারি) সকালে যাওয়ার কথা হয়। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে তার অপারেশন করার কথা ছিল।’

ইউসুফ রায়হান বলেন, ‘আমার ছেলেটা সারাদিন হাসিখুশিই ছিল। কিন্তু সেদিন (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১২টার পর থেকেই টানা বাজির শব্দে ছেলেটা বারবার কেঁপে উঠছিল। বাড়ির কাছে যেগুলো ফুটছিল সেগুলোর কারণে বিকট শব্দ হচ্ছিল। এরপর তাকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছিলাম। সাধারণত রাতে তার ঘুম কম আসতো। সেদিন সারারাত সে ছটফট করছিল। শ্বাসকষ্ট হলে তাকে নেবুলাইজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। বলতে গেলে সে রাতে তাকে আধঘণ্টা পরপরই নেবুলাইজ করতে হচ্ছিল।’

পরদিন সকালে উমায়েরকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির বাবা বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় সকাল ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৪টায় তার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে নল দিয়ে খাবার দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু প্রথমবার দেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের খাবার তার এক নাক দিয়ে গেলে অন্য নাক দিয়ে বের হয়ে আসছিল। এসময় তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত আইসিইউতে নিয়ে যান। একপর্যায়ে চিকিৎসকরা জানান, উমায়েরের অবস্থা ভালো নয়। এর কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়।’

ছোট্ট এই শিশুটির ছবিসহ ফেসবুকের এ পোস্টটি শেয়ার করে নববর্ষে আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর সমালোচনা করছেন সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।

উমায়েরের বাবা ইউসুফ গণমাধ্যমকে বলেন, সেই রাতের প্রচণ্ড শব্দে তার ছেলের মৃত্যু হলো কি না, সেটা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারব না। তবে চিকিৎসকরা বলেছেন, তার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে।

আমারসংবাদ/এডি