গত ঈদে সপরিবারে বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী এহসান উল্লাহ কবির। ঈদের দুদিন পর বাসায় এসে দেখেন জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে কেউ প্রবেশ করেছিল। সবকিছু এলোমেলো, ড্রয়ার ভাঙা। বাসা থেকে যাওয়ার আগে মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার রেখে গিয়েছিলেন বোনের বাসায়। তাই বাসায় তেমন দামি কিছু ছিল না। মোবাইলের চার্জার ও কয়েকটা দামি শাড়ি ছাড়া কিছুই খোয়া যায়নি তার। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিকালীন সময়ে ফাঁকা ঢাকার বিষয়টি তৎপর হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকার সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় নিয়ে ঈদুল আজহার ছুটিতে র?্যাব-পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই গ্রামের বাড়িতে ছুটতে শুরু করেছে মানুষ। ফলে ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এরই মধ্যে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। রাজধানীর ৫০টি থানা এলাকায় নেয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। ডিএমপি সূত্র জানায়, নিয়মিত চেকপোস্টের পাশাপাশি ইতোমধ্যেই সব এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ। এছাড়া চুরি ও ছিনতাই ঠেকাতেও নেয়া হয়েছে গোপন পরিকল্পনা। তার অংশ হিসেবে রাজধানীর অপরাধপ্রবণ পাড়া-মহল্লাগুলোতে চলছে বিশেষ নজরদারি। ইতোমধ্যেই ডিএমপির আটটি ক্রাইম জোন ও ডিবি পুলিশকে দেয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। এসব এলাকায় সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।
এছাড়া অপরিচিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন কলোনি ও অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশের সময় নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে রাখার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি বাসার দারোয়ানের তথ্য ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে পুলিশ। এছাড়া এলাকাভিত্তিক যেসব সিসিটিভি রয়েছে সেগুলোকে একটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের (ল্যান) আওতায় এনে স্থানীয় থানা থেকে মনিটর করার জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ডিএমপির একটি সূত্র বলছে, ঈদের দিন জাতীয় ঈদগাহে ৩৫ হাজার মুসল্লি একত্রে অংশ নিতে পারবেন। মাঠের চারদিকে আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। ঈদগাহ মাঠের আশপাশে প্রতিটি উঁচু ভবনের ছাদে বসানো হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার। যেখান থেকে শক্তিশালী বাইনোকুলার দিয়ে পুরো এলাকার ওপর নজর রাখা হবে। আর ওয়াচ টাওয়ারে দায়িত্বরতদের মধ্যে অনেকের কাছেই থাকবে অত্যাধুনিক স্নাইপার রাইফেল।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, গত ঈদুল ফিতরে এক কোটি ২৩ লাখ রাজধানীবাসী ঈদ আনন্দ করতে গ্রামে গিয়েছিল। সে সময় ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি সদস্য নিয়োজিত ছিল। এজন্য চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতির মতো ঘটনা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হয়েছে। মাঠে থাকা প্রতিটি সদস্যের নিবিড় তদারকের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের পবিত্র দায়িত্ব ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা এবং ঈদের ছুটিতে ঢাকা মহানগরে যারা থাকবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এসব বিষয় সামনে রেখেই নিরাপত্তার চাদরে ঢাকাকে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ঈদে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিয়ে গতকাল গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঈদ উপলক্ষে জনসমাগম বাড়বে সে কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তারা দিনরাত দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। ঈদে যারা ঢাকা শহর ছেড়ে ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে যাবেন, তারা নিজেদের প্রয়োজনীয়, গুরুত্বপূর্ণ, মূল্যবান জিনিসপত্র সযত্নে ও নিরাপদে রেখে যাবেন। কেউ কোনো সমস্যায় পড়লে পুলিশকে জানান, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউনিটকে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯-এ কল করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।