চিটাগাং ইউরিয়া সার কারখানা
উৎপাদন বন্ধ থাকায় যন্ত্রাংশে মরিচা পড়ে ও বিকল হয়ে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে
মিজানুর রহমান
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিইউএফএল গ্যাস সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে আট মাস ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহত্তম চিটাগাং ইউরিয়া সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন বন্ধ। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত সার কারখানাটিতে গত বছর ২২ নভেম্বর এক অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে বয়লারে আগুন লাগার পর থেকে সিইউএফএলের সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সিইউএফএল সূত্র জানায়, আগুন দুর্ঘটনার পর গত ৫ মে পর্যন্ত চলে বয়লার মেরামতকাজ। সার কারখানাটি এখন উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হলেও গ্যাস সংকটে যাচ্ছে না উৎপাদনে। এ ছাড়া কারখানায় ডেনমার্কের সহায়তায় চলেছে সারের ক্যাটালিস্ট রিডাকশন প্রকল্পের কাজ। এটি শেষ করতে এক মাসের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে ৪২ এমএমসিএফডি গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্যাটালিস্ট রিডেকশনের কাজও শেষ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কারখানাটি চালু থাকলে দৈনিক এক লাখ টন অ্যামোনিয়া ও এক হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে সক্ষম। বর্তমানে কারখানায় গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে গেছে। বিগত বছরে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন ইউরিয়া উৎপাদন হয়েছিল। সিইউএফএল কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, কারখানার ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া প্লান্টে পূর্ণ উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪৭-৪৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু কারখানার পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করলে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। দীর্ঘদিন উৎপাদনে না থাকায় কারখানটির মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ ফের চালু হলেও উৎপাদনে যেতে হিমশিম খাবে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাটি।
সিইউএফএল জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েও গ্যাস দিচ্ছে না। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্যাটালিস্ট রিডাকশনের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এতে রিডাকশনের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। তেমনটি হলে এই কারখানা দীর্ঘমেয়াদে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হবে। এ ছাড়া নষ্ট হবে সার উৎপাদনের উপযোগিতাও। এর আগে গত বছর ১৫ অক্টোবরও সিইউএফএলে গ্যাস সংকটে সার উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছিল। পাশাপাশি কাফকো নামের সার কারখানাটিও বন্ধ রাখতে হয় একই কারণে। এক মাসেরও কিছু বেশিদিন পর এক অগ্নিকাণ্ডের পর পুরোপুরি এই কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকলে যন্ত্রাংশে মরিচা পড়ে বিকল হয়ে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে। গ্যাস সরবরাহের জন্য কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। মিজানুর রহমান আরও বলেন, ক্যাটালিস্ট রিডাকশন দ্বারা অ্যামোনিয়া উৎপাদন করা হয়। যুক্তরাজ্যের একটি কোম্পানির মাধ্যমে সিইউএফএল প্লান্টে তা স্থাপন করা হয়েছে। এটি স্থাপন করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এমডি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে সরকার ও বিসিআইসি থেকে নির্দিষ্ট বরাদ্দ রয়েছে। সে অনুযায়ী সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহের নির্দেশ এলে গ্যাস দেয়া হবে। উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর জাপানের কারিগরি সহায়তায় কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় সিইউএফএল সার কারখানা প্রতিষ্ঠা করে সরকার। সচল থাকলে দৈনিক এক হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদিত হয় কারখানাটিতে। যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা পাঁচ লাখ ৬১ হাজার টন ইউরিয়া এবং তিন লাখ ১০ হাজার টন অ্যামোনিয়া। কারখানা বন্ধ থাকলেও এটি পরিচালনায় দায়িত্বরত ৯ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করতে হয় কর্তৃপক্ষকে।