রাজটেবিলে বসার প্রস্তাব

আবদুর রহিম প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৩, ১২:০৮ এএম

দ্বাদশ ভোটে নির্বাচনকালীন সরকার
বিএনপিসহ বিরোধীদের রাখতে আ.লীগ প্রস্তুত
—আমির হোসেন আমু

সংসদ ভেঙে দেয়ার আগ পর্যন্ত কোনো আহ্বানে যাব না 
—ড. আব্দুল মঈন খান

সংসদ ভেঙে দিলে বিরোধীদের কাছে বিশ্বস্ততা বাড়বে
—ড. শাহদীন মালিক

আ.লীগের অজুহাত হতে পারে সংকট সমাধান নয়
—মাহমুদুর রহমান মান্না

নির্বাচনকালীন সরকারের সমাধান ক্ষমতাসীন দলের কাঁধে আগামীতে কাকে নিয়ে কীভাবে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতায় রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনে আহ্বান রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনি সংকট উত্তরণে আলোচনার প্রস্তাব কূটনীতিকসহ দেশের সুশীল সমাজেরও। দ্বাদশ নির্বাচন নিয়ে অজানা আতঙ্ক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে বিএনপিসহ বিরোধীদেরও নেয়া হবে নির্বাচনকালীন সরকারে। রাজনৈতিক টেবিলেই সবার সন্তোষের পথ খোঁজা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবিধানের ভেতর থেকেই এর সমাধান সম্ভব। রাজনৈতিক দলকে সেই পথ বের করতে হবে। দেশের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সব দলকেই ছাড় দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিলে বিরোধী দলসহ বিদেশিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। তবে এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে যেতে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে বিরোধীরা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচনে যাবে না। শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর কাকে নিয়ে কোন পদ্ধতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে—  সেটি নিয়েই আলোচনা হতে পারে বলছেন তারা। 

গতকাল একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের প্রধান সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিরোধীদের যে কোনো শর্ত মানা হবে। নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপিসহ বিরোধীদের রাখতে আওয়ামী লীগ আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে। মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে বিরোধীদের মধ্য থেকে সংখ্যানুপাতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সময়ে মন্ত্রী নিয়োগ দিতেও আওয়ামী লীগ সম্মত আছে।’

আওয়ামী লীগের এই প্রতিক্রিয়ার পর বিরোধী রাজনৈতিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার সংবাদকে বলেন, আমির হোসেন আমু বিরোধীদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটা একটা অজুহাত হতে পারে, যা সংকট সমাধানের উদ্দেশ্য নয়। তাদের সংসদে রেখে তো আমরা কোনো নির্বাচনকালীন সরকারে যাব না। আগে তাদের সরে যেতে হবে; সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এরপর কীভাবে নির্বাচনকালীন সরকার হতে পারে, তাদেরসহ আর কারা থাকতে পারে— সেগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিএনপিসহ সরকারবিরোধী যারা রয়েছি, আমরা একটা চূড়ান্ত আন্দোলনের লক্ষ্য নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করছি। আমরা এই সরকারকে বাধ্য করব সরে যেতে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে। 

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান আমার সংবাদকে বলেন, দেশের জনগণ এখন আর আওয়ামী লীগের কথাকে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ মুখে যেটা বলে, করে তার উল্টোটা। আমরা স্পষ্ট বলেছি, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না; কোনো আলোচনায়ও যাব না। এই সরকার যদি সংসদ ভেঙে দেয়, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন, তখন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কীভাবে হতে পারে— তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমরা দেশের জনগণের মুক্তির জন্য আন্দোলন করছি। যদি সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা নির্বাচনকালীন সরকারের চলে যাই, তাহলে আমরা মানুষকে মুক্তি দিতে পারব না। সংসদ ভেঙে দেয়ার আগ পর্যন্ত আমরা সরকারের আহ্বানে কোনো নির্বাচনকালীন সরকারে যাব না। আপনারা দেখেছেন ঢাকায় মহাসমাবেশের দিন আমাদের কিন্তু অনুমতি দেয়া হয়নি। আমরা যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি অনুমতি ছাড়াই সমাবেশ করব, তখন আমাদের আন্দোলনে তারা মাথানত করতে বাধ্য হয়েছে। আমরা যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করছি, এখানেও সরকার মাথানত করতে বাধ্য হবে। 

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক আমার সংবাদকে বলেন, বর্তমান সংবিধান সমুন্নত রেখে আইনের মধ্যে থেকে সংসদ ভেঙে দেয়া বা নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করে সেখানে টেকনোক্র্যাট হিসেবে বিরোধী দলকে নেয়ার বিষয়গুলো রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিষয়। এগুলো নিয়ে আগেও আলোচনা এসেছে, রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে হবে। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন সংসদ রেখেই হয়েছে। বিরোধীরাও নির্বাচনে গেছে। এবার ভিন্ন দাবি উঠছে দেখছি। নির্বাচনের সময় সংসদ ভেঙে দিলে বিরোধীদের কাছে বিশ্বস্ততা বাড়বে। হয়তো আন্তর্জাতিকভাবেও গ্রহণযোগ্যতায় প্রশ্ন উঠবে না। সংসদ যখন ভেঙে যাবে, তখন বর্তমান সংসদ সদস্যদের নতুন নির্বাচন পর্যন্ত কেউ আর সদস্য থাকবেন না। তখন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্যতায় মূল্য বাড়বে মনে করছি।