ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে নির্বাচনের আগে সম্পন্ন করতে হবে এমন ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাজকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। ইসি আগেই জানিয়েছিল, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। এবার রোডম্যাপে নির্দিষ্ট সময়সূচি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হলো।
নির্বাচন কমিশন বলছে, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই ভোট সম্পন্ন করা হবে।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু হবে সেপ্টেম্বরে। এই সংলাপ চলবে দেড় মাস। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এ সংলাপকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি। ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সম্পূরক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। ৩১ আগস্টের মধ্যে তা চূড়ান্ত করা হবে। পরে ৩১ অক্টোবর শেষ হবে সম্পূরক তালিকা প্রক্রিয়া, আর ৩০ নভেম্বর প্রকাশ হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)সহ বেশ কয়েকটি আইনের সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন, ভোটার তালিকা আইন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা— এসব আইনের খসড়া সংস্কার ও প্রণয়ন কাজ শেষ করতে হবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হবে এবং মাসের শেষের মধ্যেই চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এ ছাড়া নিবন্ধিত দলগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হবে গেজেট আকারে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণও এ রোডম্যাপে অন্যতম অগ্রাধিকার পেয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আসনসীমা গেজেট প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জিআইএস ম্যাপ প্রস্তুত করে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসী ও কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। অক্টোবরের মধ্যে প্রচারণা চালানো হবে। নভেম্বর মাসে প্রবাসে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। কারাবন্দিদের ভোটের জন্য নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে ব্যালট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সফটওয়্যার, মোবাইল অ্যাপ ও ট্র্যাকিং সিস্টেম উন্নয়নের কাজও চলমান। রোডম্যাপে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেপ্টেম্বরে এক দফা বৈঠক হবে। তফসিল ঘোষণার ১৫ দিন আগে এবং ঘোষণার পরও আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া নির্বাচনি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, ব্যালট বাক্স উপযোগীকরণ, নির্বাচনি দ্রব্যাদি সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমও রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল মনিটর স্থাপন, প্রযুক্তি সরঞ্জাম সংযোজন এবং প্রাথমিক ফলাফল প্রচারে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রোডম্যাপে রাখা হয়েছে। ভোটের দিন গণনা শেষে বিভিন্ন মাধ্যমে দ্রুত ফলাফল প্রচার করবে কমিশন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, রোডম্যাপ অনুযায়ী সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন কোনো চ্যালেঞ্জ হবে না। প্রধান উপদেষ্টাও ইতোমধ্যে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।