রূপালী ব্যাংক পিএলসি

অগ্রযাত্রায় সাহসী নেতৃত্বে কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১০, ২০২৫, ০৮:৪৮ পিএম
  • অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বকে ভিত্তি করেই কর্মপরিকল্পনা, নীতি বাস্তবায়ন ও পরিবর্তনের ধারা সুদৃঢ় হয়েছে

দেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক রূপালী ব্যাংক পিএলসি আজ এক নতুন রূপে নিজেদের সাজানোর পথে এগোচ্ছে। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এমডি হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তিনি ব্যাংকটিকে নতুন ধারায় পরিচালনার স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেন। এর আগে তিনি সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দীর্ঘদিন সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বকে ভিত্তি করেই রূপালী ব্যাংকের কর্মপরিকল্পনা, নীতি বাস্তবায়ন ও পরিবর্তনের ধারা আজ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

রূপালী ব্যাংক পিএলসির সামনে নতুন দিগন্ত

কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পরই ঘোষণা দিয়েছিলেন রূপালী ব্যাংক পিএলসিকে দেশের অন্যতম আধুনিক, গ্রাহকবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। তার এ লক্ষ্যকে ঘিরেই শুরু হয়েছে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কাঠামো সংস্কার, প্রযুক্তি উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা শক্তিশালীকরণ এবং আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ। ব্যাংকের ডিএমডি, মহাব্যবস্থাপক (জিএম), উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) থেকে শুরু করে শাখা ব্যবস্থাপকরা পর্যন্ত একযোগে তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা, অনিয়ম রোধ, খেলাপি ঋণ কমানো, অনলাইন ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধারে এ নেতৃত্ব এক নতুন উদ্যম সৃষ্টি করেছে।

নেতৃত্বের দর্শন : সময়োপযোগী সেবা ও দক্ষ জনশক্তিই ব্যাংকের মূল শক্তি। ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের নেতৃত্বের মূল দর্শন হলো তিনটি স্তম্ভ— ১. দক্ষ মানবসম্পদ, ২. আধুনিক প্রযুক্তি, ৩. গ্রাহকসেবার উৎকর্ষতা।

তিনি প্রথম দিন থেকেই ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় সভা, শাখা পরিদর্শন করেন এবং প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতামত শোনেন। তার মতে, একটি ব্যাংক তখনই শক্তিশালী হয়, যখন পেশাদারিত্ব, সততা ও দলগত কাজের সমন্বয় থাকে।

সোনালী ব্যাংকে সফল অভিজ্ঞতা এনে দিল নতুন উচ্চতা

রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে যোগদানের আগে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে সরকারি ব্যাংকের আর্থিক কাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অপারেশন্স, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবার নানা দিক সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা এখন রূপালী ব্যাংক পিএলসি কাঠামোগত পরিবর্তন ও কার্যক্রম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ডিএমডি ও জিএমদের নেতৃত্বে মাঠপর্যায়ের শক্তিশালী পরিচালনা

একটি ব্যাংকের সাফল্য নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের পরিচালন ব্যবস্থার ওপর। রূপালী ব্যাংক পিএলসির ডিএমডি, মহাব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপকরা ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন ব্যাংককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে। এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা এবং জবাবদিহিতার কঠোর নীতিমালা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আরও গতিশীল করে তুলেছে।

ব্যাংকের প্রতিটি ডিএমডি তাদের সেক্টরভিত্তিক কার্যক্রম পুনর্গঠন করছেন। যেমন- ঋণ ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, অডিট কাঠামো, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা, আমানত বৃদ্ধি, গ্রাহকসেবা উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রেই নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে দ্রুততার সঙ্গে।

খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর উদ্যোগ

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বড় সমস্যা হলো খেলাপি ঋণ। রূপালী ব্যাংক পিএলসি ও এ সমস্যার বাইরে ছিল না। তবে নতুন নেতৃত্ব এ সমস্যা সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে বিশেষ মনিটরিং সেল, দাবি নিষ্পত্তিতে দ্রুততা, ডিফল্টারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ- এসব উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্দেশ দিয়েছেন, যে ঋণ নেয়া হয়, তা সময়মতো ফেরত দিতে হবে। ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ ঋণ বিতরণই ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতার মূল প্রতিশ্রুতি।

ডিজিটাল ব্যাংকিং : রূপালী ব্যাংক পিএলসি রূপান্তর

বর্তমান বিশ্ব ব্যাংকিং শিল্প প্রযুক্তিনির্ভর। উন্নত ডিজিটাল সেবা ছাড়া কোনো ব্যাংক টিকতে পারে না। এ বিষয়টি উপলব্ধি করে কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন। রূপালী ব্যাংক পিএলসির ইতোমধ্যে নিম্নোক্ত সেবাগুলো আরও আধুনিক, দ্রুত ও নিরাপদ হয়েছে। যেমন- ই-ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন অ্যাকাউন্ট সেবা, ডিজিটাল পেমেন্ট, বি-বি-পিএস ( বাংলাদেশ বিল পেমেন্ট সিস্টেম) সংযুক্তি, ই-টেন্ডারিং, সাইবার সিকিউরিটি উন্নয়ন। এই রূপান্তর ব্যাংকের আস্থা, আমানত বৃদ্ধি, গ্রাহক সন্তুষ্টি ও লেনদেনের স্বচ্ছতা আরও বাড়িয়েছে।

গ্রাহকবান্ধব সেবা : রূপালী ব্যাংক পিএলসির নতুন চেহারা

এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের নির্দেশে প্রতিটি শাখায় গ্রাহকসেবা পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। গ্রাহককে যথাযোগ্য সম্মান, দ্রুত সেবা, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি- এসব বিষয়ে কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তিনি বারবার বলেছেন, গ্রাহকই ব্যাংকের প্রাণ। গ্রাহকের সন্তুষ্টি ছাড়া ব্যাংক এগোতে পারে না।

ব্যাংকের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ

ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ব্যাংকের কর্মীদের পেশাদার দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। আধুনিক ব্যাংকিং, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আইটি সিকিউরিটি, ভালো গ্রাহকসেবা এসব প্রশিক্ষণ এখন নিয়মিত দেয়া হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা শুধু বাড়ছে না; বরং দলগত সমন্বয় ও ব্যাংকের সামগ্রিক গতি আরও বাড়ছে।

জাতীয় অর্থনীতিতে রূপালী ব্যাংকের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে

রূপালী ব্যাংক পিএলসি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হওয়ায় সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, পেনশন বিতরণ, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম, সরকারি কর্মচারীদের লেনদেনসহ নানা দায়িত্ব পালন করে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসব সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সরকারি প্রকল্পগুলোকে দ্রুত অর্থায়ন ও সমর্থন দেয়ার বিষয়েও বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও এগিয়ে যায়।

দায়িত্বশীল করপোরেট গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠা

ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও জোর দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে- অডিট চর্চা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালীকরণ, ঝুঁকি মূল্যায়নের কঠোর নীতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। এসব নীতির ফলে ব্যাংকের কর্মীরা আজ আরও জবাবদিহিতার আওতায় এসেছে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতার (CSR) কার্যক্রমে নতুন মাত্রা

রূপালী ব্যাংক পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক অগ্রগতি ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে সহায়তা করে থাকে। নতুন এমডির নেতৃত্বে এসব সিএসআর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

বিশেষ করে- দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও পুনর্বাসন, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা। এসব কার্যক্রমকে আরও পরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা : আত্মবিশ্বাসী রূপালী ব্যাংক পিএলসি

এমডি ও সিইও কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম রূপালী ব্যাংকের ভবিষ্যৎকে আরও স্থিতিশীল করতে কয়েকটি কৌশলগত উদ্যোগ নিয়েছেন। সেগুলো হলো- খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশের নিচে নামানো, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং শক্তিশালীকরণ, লাভজনক শাখা বৃদ্ধি, নতুন আমানতকারীদের আকর্ষণ, কোয়ালিটি লোন পোর্টফোলিও, এজেন্ট ব্যাংকিং সম্প্রসারণ, ডিজিটাল ফিনটেক সেবা চালু।

কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

তার লক্ষ্য- রূপালী ব্যাংক পিএলসি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক, স্বচ্ছ, দক্ষ ও গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। রূপালী ব্যাংক পিএলসি আজ যে পরিবর্তনের পথে হাঁটছে, তার পেছনে রয়েছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সুস্পষ্ট লক্ষ্য, সততা, দূরদর্শিতা এবং দায়িত্বশীলতা। ডিএমডি, জিএম, ডিজিএম ও ব্যবস্থাপকরা একযোগে তার নেতৃত্বে ব্যাংকের প্রতিটি কার্যক্রমকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নিচ্ছেন।

রূপালী ব্যাংক পিএলসির এই অগ্রযাত্রা শুধু একটি ব্যাংকের সাফল্য নয়, বরং দেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নেরও একটি প্রতিচ্ছবি। সামনে আরও সাফল্য আসবে- এমন আস্থাই আজ ব্যাংকের গ্রাহক, কর্মকর্তা এবং দেশের আর্থিক বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ করছেন।

রূপালী ব্যাংক পিএলসির নতুন নেতৃত্বের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ব্যাংকটি অদূর ভবিষ্যতে দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে বলেই সবার প্রত্যাশা।