আজ ফিরছেন তারেক রহমান

তারেক বসন্তে বাংলাদেশ

ইয়ামিনুল হাসান আলিফ প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ১১:৪১ পিএম
  • প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখতে জোর প্রস্তুতি বিএনপির, নিরাপত্তার বিষয়েও তাগাদা ইতোমধ্যে ঢাকায় জনতার ঢল
  • বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার। ৩০০ ফুট সড়ক, এভারকেয়ার হাসপাতাল ও  জিয়া উদ্যান এলাকাতেও বিশেষ নিরাপত্তাবলয়
  • উঁচু ভবন, গাড়ি বহরে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দাসংস্থার অবস্থান মোতায়েন থাকবে সোয়াট ও ডগ স্কোয়াড
  • বিমান বন্দর থেকেই তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখবে পুলিশ, ঢাকায় পৌঁছানোর পর নিরাপত্তার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করবে সিএসএফ

আজ দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাসিত জীবনের। প্রায় সতেরো বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করা এই শীর্ষ নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে যে আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতাগুলো ছিল, সেগুলো কার্যত দূর হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কেটে তার প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম হয়। তবে সে সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় থাকায় তার দেশে ফেরা কিছুটা বিলম্বিত হয়। সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও উদ্বেগ উপেক্ষা করে অবশেষে আজ দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। 

আজ ২৫ ডিসেম্বর, সতেরো বছরেরও বেশি সময় পর তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তার এই প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি নেতাকর্মীরা দেখছেন দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দলটি একটি বড় গণসংবর্ধনার আয়োজন করছে। এই উপলক্ষে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়ক এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। কুড়িল থেকে সংবর্ধনা মঞ্চের পরবর্তী অংশ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে নানা রঙের ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে।

কুড়িল মোড় থেকে কিছুটা এগিয়ে সড়কের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠের সমন্বয়ে ৪৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থের একটি বড় মঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে। মঞ্চের মূল কাঠামো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, এখন বাকি রয়েছে সাজসজ্জার কাজ। মঞ্চের দুই পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আলাদা তাঁবু বসানো হয়েছে এবং সড়কের ল্যাম্পপোস্টগুলোতে মাইক স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আগেভাগেই ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। কর্মসূচিতে অংশ নিতে তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে বাংলাদেশ ও বিএনপির পতাকা হাতে নিয়ে আসছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, কুড়িলসংলগ্ন সংবর্ধনা মঞ্চের সামনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি রয়েছে। তারা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন। কেউ মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করছেন, আবার কেউ ‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’ কিংবা ‘বীরের বেশে তারেক রহমান, আসবে এবার বাংলাদেশে’ এ ধরনের স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে তুলছেন।

এছাড়া দলটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বিষয়েও চলছে জোর প্রস্তুতি। একই সাথে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হচ্ছে নিরাপত্তার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা, গড়ে তোলা হচ্ছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করবে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)। এ লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং বাহিনীর সদস্য সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুজনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। 

তিনি এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

তার মতে, সার্বিকভাবে কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তার আগমনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তার বাসভবন, অফিস এবং চলাচলের প্রতিটি ধাপে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ প্রটেকশন, গোয়েন্দা সংস্থার নিবিড় নজরদারি এবং বহুস্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের আগেই নিরাপত্তা যাচাই (সিকিউরিটি ভেটিং) সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত যাতায়াত রুটে মোতায়েন থাকবে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য, সোয়াট টিম, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড।

এ ছাড়া কোনো জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য হাসপাতাল ও বাসভবনের দিকে যাওয়ার বিকল্প রুটগুলোতেও আলাদা নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যে কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ও নিরাপদ ব্যবস্থা নেয়া যায়। 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব সময়েই নিয়ম অনুযায়ী অতি উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রানওয়ে থেকে শুরু করে পুরো বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি ও ভিআইপি টার্মিনালসহ সব এলাকায় নিরাপত্তা তল্লাশি চলছে। ওইদিন তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইটটি অবতরণের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণ যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেই ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।  

তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি আজ বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশান অ্যাভিনিউ পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া ঢাকায় অবতরণের পর বিমানবন্দরের অদূরে তিনশ ফুট সড়কে দলের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

রাজধানীর পূর্বাচলে তিনশ ফিট সড়কের কুড়িল মোড় থেকে বেশ খানিকটা দূরে সড়কের উত্তর অংশে বাঁশের মঞ্চ বানানো হচ্ছে। দক্ষিণমুখী মঞ্চে বসানো হয়েছে কাঠের পাটাতন। সেখানেও ব্যবস্থা করা হচ্ছে বিশেষ নিওরাপত্তা বলয়। বিমানবন্দরে নামার পর থেকেই তারেক রহমানকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। তারেক রহমানকে বহন করা গাড়ির সামনে, পেছনে ও দুইপাশে চারটি গাড়িতে থাকবেন পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সোয়াট ও এসপিবিএনের সতর্ক সদস্যরা। 

এ ছাড়া একটি গোয়েন্দা সংস্থার আলাদা দুটি যানবাহনও থাকবে- যেগুলো থেকে অন্য যানবাহনের সদস্যদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিভিন্ন সড়কে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরাও এ সময় বিশেষ দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবেন। সন্দেহভাজন যে কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারের নির্দেশও রয়েছে। এ সময় আশপাশের উঁচু ভবনগুলোতেও পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

হাসপাতাল ও বাসা দুটি রুট ঘিরেই নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। দেশে ফিরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন শুক্রবার। এ কর্মসূচি ঘিরে ৩০০ ফুট সড়ক, এভারকেয়ার হাসপাতাল ও শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যান এলাকাতেও বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার প্রস্তুতি রয়েছে। দেশে ফেরার আগের রাতেই এই দুই রুট ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া রয়েছে। 

এদিকে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ঢাকায় ব্যাপক লোকসমাগম হবে। বিষয়টি মাথায় রেখে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে আগাম পরিকল্পনা করা হয়। এ ছাড়া তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিম ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটের সদস্যরা। তার বাসভবন ও অফিস এলাকায় ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং কার্যক্রম চালিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে পুলিশ। 

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিএনপির সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বহুমাত্রিক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে চলাচলের প্রতিটি রুট, সম্ভাব্য কর্মসূচি ও অবস্থানস্থলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও জনস্বস্তি নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তার আগমনসূচি ও প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। সেখানে জানানো হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে রওনা দেবেন তারেক রহমান।

সিলেটে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতির পর তিনি বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিমানবন্দর থেকে তিনি পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কে আয়োজিত একটি সংক্ষিপ্ত অভ্যর্থনা সমাবেশে অংশ নেবেন। এই আয়োজনটিতে তারেক রহমান ছাড়া অন্য কেউ বক্তব্য দেবেন না বলেও জানানো হয়েছে। এ সময় তারেক রহমানের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কেও তথ্য দেয়া হয়। 

জানানো হয়, আজ অভ্যর্থনা শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরদিন জুমার নামাজের পর তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন এবং পরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম ও ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এছাড়া তিনি শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিকভাবে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাতেও এটি এক বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমনকি বিএনপি নেতাকর্মীদের দেশব্যাপী উন্মাদনা ও আনন্দ উৎসবে ডিসেম্বরের শীতেও যেন তারেক বসন্তে পৌঁছেছে বাংলাদেশ।