একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো তার তরুণ প্রজন্ম। আর এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো মাদক। মাদকের করাল গ্রাস থেকে দেশকে রক্ষা করতে এবং একটি সুস্থ সবল জাতি গঠনে যে প্রতিষ্ঠানটি ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, তা হলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণে এই অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের নেতৃত্বে একঝাঁক সাহসী কর্মকর্তা ও কর্মচারী সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে চলেছেন। প্রতিরোধ, দমন, চিকিৎসা ও সচেতনতা, এই চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে মাদক নির্মূলে নিরলস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এই বিভাগ।
নেতৃত্বের দৃঢ়তা, মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের দর্শন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বর্তমান কর্মচাঞ্চল্য ও সাফল্যের মূলে রয়েছে মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের দূরদর্শী নেতৃত্ব। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অধিদপ্তরের আভিযানিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি কেবল দাপ্তরিক প্রধান হিসেবে নয়, বরং একজন মাঠ পর্যায়ের নির্দেশক হিসেবে প্রতিটি অভিযানে গতিশীলতা এনেছেন। তার নেতৃত্বে অধিদপ্তরের প্রতিটি কর্মী আজ উজ্জীবিত। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল আইন দিয়ে নয়, বরং দেশপ্রেম এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। তার কৌশলী নির্দেশনায় মাদক সিন্ডিকেটগুলো আজ দিশেহারা।
প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহের মূলে আঘাত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসারদের প্রাথমিক ও প্রধান কাজ হলো মাদকের সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস করা। চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়। ইয়াবা, আইস বা ক্রিস্টাল মেথ, হেরোইন এবং ফেনসিডিলের মতো বিধ্বংসী মাদকের বড় বড় চালান জব্দ করতে অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান চালায়। শুধু অবৈধ মাদক নয়, বৈধ মাদকের যেমন ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহল বা রাসায়নিক দ্রব্য এর আমদানি, পরিবহন ও ব্যবহার কঠোর লাইসেন্সিং পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যাতে এর অপব্যবহার না ঘটে।
অভিযান ও তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্যের সফল প্রয়োগ মাদক ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তাদের মোকাবিলায় অধিদপ্তরের অফিসাররা অত্যাধুনিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদক ব্যবসার মূল হোতা বা গডফাদারদের খুঁজে বের করতে গভীর তদন্ত পরিচালনা করা হয়। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের ও চার্জশিট প্রদান করা হয়, যাতে অপরাধীরা আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, অন্ধকারের পথ থেকে আলোতে ফেরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিশ্বাস করে, যারা মাদকাসক্ত তারা কেবল অপরাধী নয়, তারা মানসিকভাবে অসুস্থ। তাই তাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা অধিদপ্তরের অন্যতম মানবিক দায়িত্ব। সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে মাদকাসক্তদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। সুস্থ হওয়ার পর তাদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হয়।
সচেতনতা সৃষ্টি, জনমত যখনই সবচেয়ে বড় অস্ত্র মাদক নির্মূলে অভিযানের চেয়েও বেশি কার্যকর হলো সচেতনতা। ‘মাদককে না বলুন’, এই মন্ত্রটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে অধিদপ্তর নিরন্তর কাজ করছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের কুফল তুলে ধরে সেমিনার ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানো হয়। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক বিষয়বস্তু প্রচার করা হয়।
সমন্বয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মাদক একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আন্তঃদেশীয় মাদক চোরাচালান বন্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সাথে তথ্য বিনিময় এবং যৌথ প্রশিক্ষণে অংশ নেয় অধিদপ্তর। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সাথে সমন্বয় সাধন করে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কর্মচারীদের ভূমিকা মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিসাররা মূলত মাঠ পর্যায়ের ‘সম্মুখযোদ্ধা’। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা গভীর রাত পর্যন্ত দুর্গম এলাকায় হানা দেন। অনেক সময় সশস্ত্র মাদক ব্যবসায়ীদের আক্রমণের শিকার হতে হয় তাদের, তবুও দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারা পিছু হটেন না। মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় এই কর্মীবাহিনী এখন অনেক বেশি পেশাদার এবং সাহসী।
কারিগরী পরামর্শ ও নীতি নির্ধারণ অধিদপ্তর কেবল মাঠ পর্যায়ে কাজ করে না, বরং সরকারের কারিগরী পরামর্শক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাদক শুল্ক নির্ধারণ এবং নতুন ধরনের মাদক শনাক্তকরণে সরকারকে বৈজ্ঞানিক ও তথ্যগত সহায়তা প্রদান করেন এই অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর একটি স্বপ্নের পেছনে ছুটছে আর তা হলো মাদকমুক্ত একটি উন্নত বাংলাদেশ। মো. হাসান মারুফের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, তা আজ সাধারণ মানুষের আস্থায় পরিণত হয়েছে। জনগণের সহযোগিতা এবং অধিদপ্তরের অফিসারদের সাহসিকতা অব্যাহত থাকলে অচিরেই বাংলাদেশ থেকে মাদকের অভিশাপ চিরতরে মুছে যাবে। একটি সুস্থ জাতি এবং একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার এই লড়াইয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিটি সদস্য আজ অঙ্গীকারবদ্ধ। এক নজরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চারটি স্তম্ভ হলো চাহিদা ও সরবরাহ কমানোর মাধ্যমে প্রতিরোধ, অভিযান, গ্রেপ্তার ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দমন, আসক্তদের সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সচেতনতা।
জেএইচআর