একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্দার আড়ালে যে প্রতিষ্ঠানটি চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করে যায়, সেটি হলো বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। দেশের প্রধান ও প্রাচীনতম গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে এসবি কেবল তথ্য সংগ্রহই করে না, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতিটি রন্ধ্রে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটির নেতৃত্বে রয়েছেন দূরদর্শী ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা মো. গোলাম রসুল। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় এসবির প্রতিটি সদস্য আজ সাহসিকতার সাথে জাতীয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।
যেকোনো গোয়েন্দা সংস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে তার নেতৃত্বের দূরদর্শিতার ওপর। এসবির বর্তমান প্রধান মো. গোলাম রসুল যোগদানের পর থেকেই সংস্থাটির কর্মপদ্ধতিতে আধুনিকতা ও গতির সঞ্চার করেছেন।
তাঁর নির্দেশনায় অফিসাররা কেবল গতানুগতিক গোয়েন্দাগিরি নয়, বরং প্রযুক্তি নির্ভর তথ্য বিশ্লেষণ এবং আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য দেখাচ্ছেন। তাঁর অধীনে কর্মরত অফিসাররা দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি এসবিকে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে রূপান্তর করেছেন।
বাংলাদেশ পুলিশের অন্যান্য শাখার মতো এসবি পোশাকি ডিউটিতে থাকে না, কিন্তু তাদের নজরদারি থাকে সর্বত্র। এসবির অফিসারদের কাজের পরিধি অত্যন্ত বিশাল।
এসবির প্রধান কাজ হলো দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৌশলগত তথ্য সংগ্রহ করা। রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ওপর নজরদারি করতে এসবির অফিসাররা নিরলস কাজ করেন।
রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টাসহ দেশি-বিদেশি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (VVIP) নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এসবির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কোনো প্রকাশ্য জনসভা হোক বা রাষ্ট্রীয় সফর, এসবির ক্লিয়ারেন্স এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কর্মসূচি সফল হওয়া সম্ভব নয়।
দেশের প্রতিটি প্রবেশপথ—স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে এসবির ইমিগ্রেশন পুলিশ কাজ করে। পাসপোর্ট যাচাই-বাছাই, ভিসা ভেরিফিকেশন এবং বিদেশিদের যাতায়াত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করে যেন কোনো অপরাধী সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি কিংবা রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর কোনো দায়িত্ব প্রদানের আগে প্রার্থীর রাজনৈতিক ও সামাজিক তথ্য যাচাই করে এসবি। তাদের দেওয়া 'নিরাপত্তা ছাড়পত্র' বা ক্লিয়ারেন্স রাষ্ট্রের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
দেশি-বিদেশি চক্রান্তের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সামাজিক অস্থিরতা যেমন—শ্রমিক অসন্তোষ, ছাত্র আন্দোলন বা কোনো সাম্প্রদায়িক উত্তজনা সম্পর্কে সরকারকে আগাম তথ্য দেয় এসবি। এই আগাম তথ্যের ভিত্তিতেই সরকার বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা রোধে সক্ষম হয়।
মো. গোলাম রসুল-এর নেতৃত্বে এসবি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ। ডিজিটাল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ (Cyber Intelligence) এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তারা এখন অনেক দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ বিনির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে ঘুমাতে পারবে এবং রাষ্ট্র থাকবে শত্রুমুক্ত।— এই মূলমন্ত্রেই দীক্ষিত এসবির বর্তমান টিম
গোয়েন্দা কাজ মানেই ঝুঁকি। অনেক সময় পরিচয় গোপন রেখে চরম শত্রুভাবাপন্ন এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয় এসবির অফিসারদের। মো. গোলাম রসুল-এর সুযোগ্য নেতৃত্বে অফিসারদের মনোবল এখন তুঙ্গে। তাঁর মানবিক আচরণ এবং কাজের প্রতি একাগ্রতা নিচের স্তরের অফিসারদের মধ্যে দেশপ্রেমের এক নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) কেবল একটি নাম নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের এক অদৃশ্য বর্ম। মো. গোলাম রসুল-এর মতো একজন দক্ষ কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই সংস্থাটি আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষায় এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরামর্শ প্রদান সবক্ষেত্রেই এসবি আজ অপরিহার্য।
এএন