বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন কর্মসংস্কৃতির সূচনা হয়েছে। যেখানে নেতৃত্ব কেবল নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান সরকারের হাল ধরার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার প্রতিদিনের ১৮ ঘণ্টার নিরলস পরিশ্রম এখন টক অফ দ্য কান্ট্রি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং একটি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তার গৃহীত পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি এবং জননিরাপত্তায় নিয়ে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
১৮ ঘণ্টার কর্মঘণ্টা- ক্লান্তিহীন এক নেতার প্রতিচ্ছবি : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকেই তারেক রহমানের রুটিন বদলে গেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনে তিনি প্রতিদিন গড়ে ১৮ ঘণ্টা সময় ব্যয় করছেন। এই দীর্ঘ কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ কাটছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি এবং নীতিনির্ধারণী সভায়।
সাধারণ জনগণের মতে, নেতার এই পরিশ্রম প্রশাসনের নিচের স্তর পর্যন্ত একটি শক্ত বার্তা পৌঁছে দিয়েছে- এখন আর বসে থাকার সময় নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, তিনি ফাইল ছাড় করার চেয়ে প্রকল্পের গুণগত মান এবং বাস্তবায়নের গতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই ১৮ ঘণ্টার শ্রম কেবল ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, বরং রাষ্ট্রযন্ত্রকে সচল রাখার এক নিরন্তর প্রচেষ্টা।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বনাম বর্তমান বাস্তবতা : নির্বাচনপূর্ব ইশতেহারে তারেক রহমান ঘোষণা করেছিলেন ‘জনগণের সরকার’ প্রতিষ্ঠার। ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সুশাসন ও জবাবদিহিতা: প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কেবল স্লোগানে নয়, বরং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছেন।
বিচারের বাণী : রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তার সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ না করার নীতি গ্রহণ করেছে, যা ছিল তার নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। কর্মসংস্থান: তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইটি সেক্টর ও ক্ষুদ্র শিল্পে ব্যাপক প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে উত্তরণের যে রোডম্যাপ তিনি দিয়েছিলেন, তা এখন দৃশ্যমান।
অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার কৌশল : বিগত সময়ের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রধানমন্ত্রী কিছু সাহসী এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।ব্যাংকিং খাত : খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট নিরসনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ : বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে টিসিবি ও ওপেন মার্কেট সেলের পরিধি বাড়ানো। বৈদেশিক মুদ্রা : রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ইনসেনটিভ এবং হুন্ডি বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত সমাজই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাই কর কাঠামো সংস্কার করে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা কমিয়ে বড় শিল্পপতিদের ট্যাক্স জালের আওতায় আনা হচ্ছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত- স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ : জেনারেল রুরাল ইলেকট্রিসিটি এবং শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খাতে ‘আমদানি নির্ভরতা’ কমিয়ে ‘নিজস্ব উৎপাদন’ বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি: সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। নিজস্ব খনি উত্তোলন: দেশের গ্যাস ও কয়লা খনিগুলো থেকে উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে নতুন নতুন চুক্তি ও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে দেশকে রক্ষা করতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জনসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয় : এদেশের মানুষকে ভালো রাখার জন্য আমি সব করতে পারি- প্রধানমন্ত্রীর এই উক্তি আজ কেবল কথায় নয়, কাজেও প্রমাণিত। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ ও পরিধি বাড়ানো হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নেয়া হয়েছে ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রকল্পের উন্নত সংস্করণ, যাতে শহরের সুবিধা গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়।
শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সার্টিফিকেটধারী বেকারের চেয়ে দক্ষ জনশক্তি দেশের বড় সম্পদ। তাই প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
আগামীর লক্ষ্য- একটি আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল দর্শন হলো- বাংলাদেশ কারো দয়া বা ঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না। কৃষিতে আধুনিকায়ন এবং যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে। সার, বীজ ও কৃষি যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৮ ঘণ্টার এই দীর্ঘ পথচলা কেবল একজন ব্যক্তির পরিশ্রম নয়, এটি একটি জাতির ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ক্ষমতার মোহ নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ বাধা অতিক্রম করে তিনি যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
দেশবাসী বিশ্বাস করে, সততা এবং নিষ্ঠার সাথে যদি এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে, তবে অচিরেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাশীল ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘মিশন ১৮ ঘণ্টা’ সফল হোক- এটাই এখন ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশা।