প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

ইলিশ উৎপাদন কমলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

বরিশাল ব্যুরো প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৫, ০৬:১৬ পিএম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার বলেছেন, ইলিশের উৎপাদন কমছে, যার পেছনে প্রাকৃতিক কারণসহ নদীর নাব্যতা হ্রাস, মেঘনা নদীর দূষণ বৃদ্ধি এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। 

বলেন, বৃষ্টি না হলে ইলিশ ডিম পাড়তে পারে না। পাশাপাশি নদী ভরাট এবং দখলের মতো কার্যক্রমও ইলিশের প্রাপ্যতা কমাচ্ছে। সরকার এসব বিষয় মোকাবেলায় ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সোমবার দুপুরে বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘উপকূলীয় এলাকার মহিষের চারণভূমি ও উন্নয়নের সমস্যা’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার বলেন,“ইলিশ একটি মাইগ্রেটরি মাছ। এটি সমুদ্র থেকে নদীতে আসে এবং আবার ফিরে যায়। কিন্তু বর্তমানে ঝাটকা নিধন ও অবৈধ জালের ব্যবহার এর প্রাপ্যতা কমাচ্ছে। কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী অভিযান চালালেও এটি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তবে এসবের বিরুদ্ধে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করি খুব শীঘ্রই ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

তিনি আরও জানান, ঢাকায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নদী থেকে মাছ ধরে হাত বদলের সিন্ডিকেট বন্ধের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি বাজারে মাছ পাবেন এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আসবে।

উপদেষ্টা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় মহিষের চারণভূমি সংকুচিত হয়ে গেছে। বাড়িঘর নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কারণে এই জমি কমছে। তিনি জানান, গরু, ছাগল ও মহিষ পালন মানুষের খাদ্য ও জীবন রক্ষার জন্য জরুরি। সঠিক নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে চারণভূমি রক্ষা করা সম্ভব এবং এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বাফেলো এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ওমর ফারুক সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফ উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং জিজেইউএস নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন।

ইএইচ