রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় দুটি মসজিদ ও একটি মন্দিরের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্থায়ী জমি বরাদ্দ দিয়েছে।
বুধবার রেলভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দিন আরিফ মসজিদ ও মন্দির পরিচালনা কমিটির কাছে বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—রে লপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন প্রমুখ।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, খিলক্ষেত রেলওয়ে জামে মসজিদ, আন-নূর জামে মসজিদ এবং খিলক্ষেত সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির কর্তৃপক্ষ স্থায়ী উপাসনালয়ের জন্য রেলের কাছে আবেদন করেন। আবেদনটি মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হলে অনুমোদন দেওয়া হয়।
মোট ৩১.১৫ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্লটের প্রতীকী মূল্য মাত্র ১,০০১ টাকা ধরা হয়েছে। রেলওয়ের সূত্রে জানা যায়— খিলক্ষেত রেলওয়ে জামে মসজিদ: ২০.১১ শতাংশ, আন-নূর জামে মসজিদ: ৫.৫২ শতাংশ ও খিলক্ষেত সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির: ৫.৬২ শতাংশ।
রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। সব ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা থাকবে। কেউ সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন রেলের সিদ্ধান্তকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের বেহাত হয়ে যাওয়া দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধারে রেলওয়ে সহযোগিতা করবে, যেখানে আদালতে কোনো মামলা নেই।”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “রেলের আইনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি বরাদ্দের কোনো ধারাবাহিক বিধান নেই। তবে সামান্য ব্যত্যয় ঘটিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য স্থায়ী জমি দেওয়া হয়েছে।”
এ পদক্ষেপকে ধর্মীয় সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইএইচ