প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

স্বৈরশাসনের অবসানে বাংলাদেশের তরুণরা জেগে উঠেছিল

বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫, ১১:২১ পিএম

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গত বছর (২০২৪) বাংলাদেশে আমরা তরুণদের অসাধারণ শক্তি প্রত্যক্ষ করেছি। তারা স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে এবং জাতির গতিপথ পুনরায় ঠিক করতে সাহসের সঙ্গে জেগে উঠে এসেছিল। তরুণরা সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করেছিল।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে যুবকদের জন্য ‘ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন’-এর ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “৮৫ বছর বয়সে আমি আজকের থিম ‘আন্তঃপ্রজন্মের সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা’-এর গভীরতা অনুভব করি। বিশ্বজুড়ে তরুণরা পরিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে স্বীকৃত। তবু তারা ক্রমাগত বৈষম্য, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, সংরক্ষণবাদ এবং ডিজিটাল বিভাজনের শিকার। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে যুব বেকারত্ব, যা বিশেষ করে নিম্নআয়ের দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের বেকারত্বের চেয়ে চারগুণ বেশি।”

তিনি আরও বলেন, “প্রযুক্তি উদ্ভাবন অন্তর্ভুক্তিকরণের জন্য বিশাল প্রতিশ্রুতি দেয়। বাংলাদেশে আমরা জাতীয় যুব উদ্যোক্তা নীতি চালু করেছি, যা অর্থায়ন, দক্ষতা এবং বাজারের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে। যুব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীন সংস্কার কমিশনগুলোতে এবং জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতায় তাদের কণ্ঠস্বর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

ড. ইউনূস যোগ করেন, “বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী ইয়ুথ প্রোগ্রাম, প্যাক্ট ফর দ্য ফিউচার, ইউএন ইয়ুথ স্ট্র্যাটেজি ২০৩০ এবং ইয়ুথ, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ডাকে সমর্থন করে। তবে কোনও দেশ একা যুব ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারে না। বাধা দূর করতে, সমতা নিশ্চিত করতে এবং আন্তঃপ্রজন্মের নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি শেষ করেন, “আমাদের একা ভবিষ্যৎ বহন করার দরকার নেই। কেবল তরুণদের ন্যায্য অংশ, নিরাপদ স্থান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুযোগ দিতে হবে। আমি নিশ্চিত, তারা নিজের জন্য, বিশ্বের জন্য এবং ভবিষ্যতের জন্য বিচক্ষণভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।”

ইএইচ