উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য উপেক্ষা করে উন্নয়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৭:৫৭ পিএম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যকে পাশ কাটিয়ে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে তা শুধু ভুল নীতি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকৃতিকে উপেক্ষা করে গৃহীত কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ান হেলথ কার্যক্রম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, অবকাঠামো বা রাস্তাঘাট নির্মাণ করা সম্ভব হলেও একটি সুন্দরবন বা নদী নতুন করে তৈরি করা যায় না। মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রস্থলে পরিবেশকে রাখতে হবে।

তিনি মনে করিয়ে দেন যে, মানুষ প্রকৃতির মালিক নয় বরং প্রকৃতিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক মহামারি বারবার এই সত্যকে সামনে নিয়ে আসছে।

‘ওয়ান হেলথ’ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতাকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। এসব সমস্যা সমাধানে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সুস্পষ্ট ‘ফোকাল পয়েন্ট’ নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রকৃতিনির্ভর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এটি কেবল কারিগরি বিষয় নয়, বরং একটি নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য—এই সবকটি মন্ত্রণালয়কে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ‘ওয়ান হেলথ’ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

সেমিনারের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা একমত হন যে, পরিবেশ, প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা না করলে আগামী দিনের বৈশ্বিক সংকটগুলো আরও ভয়াবহ হবে।

ইএইচ