শোকাতুর পরিবেশ আর হাজারো মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অকুতোভয় যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি (ওসমান হাদি)।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তার কফিন বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রিয় সহযোদ্ধাকে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন সরকারের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং রাজপথের অগণিত সতীর্থ।
বিমানবন্দরে ওসমান হাদির কফিনের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান উপদেষ্টা আদিলুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
এ সময় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত পৌনে ৭টার দিকে তাঁর মরদেহ ফ্রিজার ভ্যানে করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে নেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, শহীদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা আগামীকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো প্রকার ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জানাজা চলাকালীন সংসদ ভবন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনে গণসংযোগকালে রাজধানীর বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার এই শাহাদাত বরণের খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই খুনিদের বিচারের দাবিতে রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠেছে। আগামীকাল জানাজা শেষে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ইএইচ