ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার নেপথ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির সরাসরি নির্দেশ ছিল।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পর থেকে বাপ্পিকে নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। এক সময়ের সাধারণ ঝুট ব্যবসায়ী থেকে ‘পল্লবীর জমিদার’ হয়ে ওঠা বাপ্পির উত্থান ও অপরাধের সাম্রাজ্য নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।
মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কথা বলায় বাপ্পির পরিকল্পনায় হাদিকে হত্যা করা হয়।
এই মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পরিবহনে চাঁদাবাজি, গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা এবং ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান থেকে চাঁদা আদায় করে কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বাপ্পি। ২০২০ সালের নির্বাচনী হলফনামায় তার কেবল একটি ৭০০ বর্গফুটের টিনশেড বাড়ি ছিল। তবে বর্তমানে সেই স্থানে দাঁড়িয়ে আছে তিনতলা আলিশান ‘চৌধুরী ভিলা’।
হলফনামায় কোনো গাড়ির উল্লেখ না থাকলেও এখন তিনি হ্যারিয়ার জিপসহ চারটি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করেন। এছাড়া বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৫০ বিঘা জমির ওপর তার বিশাল অটো ব্রিকফিল্ড রয়েছে।
২০১২ সালে ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাপ্পির রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। এরপর ২০১৪ সালে পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত।
২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার সম্পদের হিসাব তলব করলেও অজ্ঞাত কারণে সেই তদন্ত আর এগোয়নি। ২০২১ সালে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও রহস্যজনকভাবে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয়ী হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয় নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। ডিবির তদন্ত বলছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর ও নির্দেশদাতা ছিলেন কাউন্সিলর বাপ্পি।
ইএ্চ