রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় নিজ বাসায় ফাতেমা আক্তার লিলি (১৭) নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। 

শনিবার দুপুরের কোনো এক সময়ে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জনবহুল এলাকায় দিনের আলোতে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ বনশ্রীর প্রধান সড়কে অবস্থিত ‘প্রীতম বিলায়’ লিলিদের বাসা। শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাসায় প্রবেশ করে লিলিকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শ্বাসনালি কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। বিকেল গড়িয়ে গেলেও লিলির কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

খবর পেয়ে খিলগাঁও থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সিআইডির অপরাধ তদন্ত বিভাগের ক্রাইম সিন ইউনিটও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিহতের গলায় গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে, যা কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে করা হয়েছে।

খিলগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, ফাতেমা আক্তার লিলি নামের ওই তরুণী স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করত। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি যে, ঘটনার সময় সে বাসায় একাই ছিল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য কী এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে আমরা কাজ শুরু করেছি।

দিনের বেলা ব্যস্ততম একটি সড়কের পাশের ভবনে এই হত্যাকাণ্ড অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেশ কিছু দিক খতিয়ে দেখছেন। ঘাতকরা কি পরিচিত ছিল? বাসার দরজায় জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো চিহ্ন না থাকলে ধারণা করা হতে পারে লিলি নিজেই পরিচিত কাউকে দরজা খুলে দিয়েছিল। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রবেশপথের নিরাপত্তা তল্লাশি করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তরা ছদ্মবেশে ভেতরে ঢুকেছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ১৭ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল কি না, কিংবা কোনো কিশোর গ্যাং বা বখাটে চক্রের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

লিলির এমন মৃত্যুতে তার পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, লিলি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল। তার মা, বাবা এবং আত্মীয় স্বজনরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একজন প্রতিবেশীর ভাষ্যমতে, দুপুরবেলা যখন সবাই কাজে ব্যস্ত, তখন এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল কেউ টেরও পেল না, এটা বিশ্বাস করা কঠিন।

পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওসি শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটনের জন্য আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ইএইচ