সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, বরং তিনি সত্যিকার অর্থেই দেশ ও মানুষের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় তিনি এ কথা বলেন।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, খালেদা জিয়ার জানাজায় দলমত নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে তিনি কতটা জনপ্রিয় ও সর্বজনীন নেত্রী ছিলেন।
বিশেষ করে তার রুচিশীলতা, পরিমিতিবোধ ও আত্মমর্যাদাবোধের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যখন শালীনতার অভাব প্রকট ছিল, তখন তিনি চরম প্রতিকূলতা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখেও কখনোই প্রকাশ্যে ক্ষোভ বা নিন্দাসূচক বক্তব্য দেননি। আজকের অসহিষ্ণু রাজনীতির সময়ে তার এ সংযম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
খালেদা জিয়ার জানাজায় দেওয়া বিএনপির এক নেতার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নূরুল কবীর বলেন, সেদিন অঙ্গীকার করা হয়েছিল যে তাঁদের রাজনীতি খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শে পরিচালিত হবে। তিনি বিএনপিকে এ কথা রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
শোকসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজসহ বিশিষ্টজনেরা সভায় যোগ দেন।
শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক শফিক রেহমান, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ইউজিসি চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ ও চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর আপসহীন সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।
বেলা আড়াইটায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ স্মরণসভা বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতারা দর্শক সারিতে থেকে শোকসভায় অংশ নেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এক বিষণ্ণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
ইএইচ