সিরিয়াল কিলিংয়ের নেপথ্যে কে এই সম্রাট?

বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশ থেকে গত ছয় মাসে ছয়টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

সাভার মডেল থানার পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মশিউর ছয়টি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে সোমবার সকালে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

আজ সাভার মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃত মশিউর রহমান সম্রাট পুলিশের কাছে নিজেকে সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। 

তবে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম আজ সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, পুলিশ সম্রাটের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে কোনো হদিস পায়নি। 

পুলিশের ভাষ্যমতে, সম্রাট মূলত একজন ভবঘুরে। তার স্থায়ী কোনো আবাসস্থল বা সুনির্দিষ্ট পেশার তথ্য পাওয়া যায়নি। অপরাধের ধরন দেখে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হতে পারে, তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার আচরণে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। সে অত্যন্ত সচেতনভাবে এবং ঠান্ডা মাথায় এ হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।

সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে বারবার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। পৌরসভার সহায়তায় ভবনটি পরিষ্কার করা হয় এবং সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। 

গত রোববার যখন কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে ১৩ ও ২৫ বছর বয়সী দুই ব্যক্তির আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তখন সিসিটিভি ফুটেজে সম্রাটের সন্দেহজনক আনাগোনা লক্ষ্য করে পুলিশ। এরপর দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক সব তথ্য, সে কেবল এ দুটি নয়, গত ছয় মাসের সবকটি হত্যার মূল কারিগর।

সাভারের এ পরিত্যক্ত ভবনটি খুনি সম্রাটের কিলিং জোন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর পৃথক পৃথক মামলা করা হয়েছে। সম্রাটকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হবে তার খুনের নেপথ্যে আর কোনো সহযোগী আছে কি না, কিংবা এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো মোটিভ বা উদ্দেশ্য কাজ করছে কি না। 

সাভারের প্রাণকেন্দ্রে একটি পরিত্যক্ত ভবনকে কেন্দ্র করে এভাবে একের পর এক খুনের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত এবং অরক্ষিত থাকায় অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

ইএইচ