সাতরাস্তা মোড়ে কারিগরি শিক্ষার্থীদের অবরোধ, যানজটে নাকাল নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

নিয়োগ বিধিমালায় বিএসসি প্রকৌশলীদের অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত নতুন সুপারিশ বাতিলের দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় অবরোধ করেছে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। 

দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের ফলে তেজগাঁও, মহাখালী এবং মগবাজার এলাকার যান চলাচল পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানান, সরকারের একটি সাম্প্রতিক সুপারিশে বলা হয়েছে—দশম গ্রেডের ‘উপসহকারী প্রকৌশলী’ পদে এখন থেকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীরাও নিয়োগের সুযোগ পাবেন।

অধিকার হরণ: ঐতিহ্যগতভাবে উপসহকারী প্রকৌশলী পদটি ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বিএসসিদের এখানে সুযোগ দিলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে।

সুপারিশ বাতিলের দাবি: শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে এই ‘বৈষম্যমূলক’ সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

কঠোর হুঁশিয়ারি: কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের নেতা আরিফ বিল্লাহ বলেন, বিএসসি ডিগ্রিধারীরা সহকারী প্রকৌশলী পদে আবেদনের সুযোগ পান। কিন্তু এখন নিচের গ্রেডেও তাদের ঢুকিয়ে দেওয়া আমাদের জন্য আত্মঘাতী। এই সুপারিশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।

সাতরাস্তা মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়টি অবরোধ হওয়ার ফলে এর প্রভাব রাজধানীর বিশাল এলাকা জুড়ে পড়েছে। বিশেষ করে সাতরাস্তা থেকে মগবাজার-কাকরাইল অভিমুখে এবং মহাখালী থেকে ফার্মগেটমুখী সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

সাতরাস্তা থেকে কাকরাইল: দুপুর থেকেই এই রুটে চাকা ঘুরছে না।

বিকল্প পথ: সোনারগাঁও হোটেলের সামনের কানেক্টিং রোড দিয়ে কিছু গাড়ি পার করার চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত চাপে তা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

ডাইভারশন: মহাখালীর দিক থেকে আসা যানবাহনগুলোকে ট্রাফিক বিভাগ বিকল্প পথে ডাইভারশন দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ভোগান্তির শিকার এক বাস যাত্রী জানান, বনানী থেকে শান্তিনগর যাওয়ার পথে সাতরাস্তায় ২ ঘণ্টা আটকে আছি। শেষ পর্যন্ত বাস থেকে নেমে হেঁটেই রওনা দিয়েছি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) তানিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে পার্শ্ববর্তী প্রায় সব সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ পরিস্থিতি সামাল দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য চালকদের পরামর্শ দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
 
কারিগরি শিক্ষার্থীদের এই হঠাৎ অবরোধে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সরকার যদি দ্রুত আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় না বসে এবং নিয়োগ সংক্রান্ত সুপারিশের বিষয়টি পরিষ্কার না করে, তবে এই বিক্ষোভ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার এবং জনদুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এএন