রাজধানীতে‌ জুলাই গণহত্যার রাজসাক্ষী ও সমন্বয়ককে কুপিয়ে জখম 

‎রুমান হাসান তামিম প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১১:০৯ এএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ২৪শে গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও জুলাই গণহত্যার রাজসাক্ষী ইব্রাহিমের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। বোরকা পরিহিত দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎রোববার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের ময়ূর ভিলার পাশের ঢালে বোটঘাট গলির একটি চায়ের দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারাবি নামাজ শেষ করে ইব্রাহিম কয়েকজন পরিচিতজনের সঙ্গে আল মদিনা টি স্টলে বসে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ৪ জন ব্যক্তি বোরকা পড়ে ও গামছা মুড়ি দিয়ে এসে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার এক হাত, মাথা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

‎হামলার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিমের শরীরে একাধিক জখম রয়েছে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা শেষে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। 

‎প্রত্যক্ষদর্শী আরিফ আহমেদ বলেন, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আমরা মোহাম্মদপুরের ময়ূর ভিলার পাশের ঢালে আল মদিনা টি স্টলে বসে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে থামে। সেখান থেকে বোরকা পরা ও গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে ৪ জন ব্যক্তি দ্রুত নেমে ইব্রাহিমকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ইব্রাহিম সহ আমরা সবাই দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিম হামলার শিকার হন এবং তার হাত, মাথা ও পিঠে ভয়াবহ জখম হয়। দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে‌। পরবর্তীতে স্থানীয়রা এসে সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়।

‎ঘটনার খবর পেয়ে গভীর রাতে হাসপাতালে ছুটে যান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, যিনি এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের সংসদ সদস্য (এমপি) পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন ইব্রাহিম একজন সাহসী তরুণ, যে একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের সময় সম্মুখসারিতে ছিল এবং পরবর্তীতে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছে। নির্বাচনের সময় সে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষে নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। আজ তাকে যেভাবে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও কাপুরুষোচিত। আমি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি‌ - ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। 

‎এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেত্রী সামান্থা শারমিনও গভীর রাতে হাসপাতালে গিয়ে আহতের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, জুলাই‌ আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের ধারাবাহিকভাবে হামলার চেষ্টা হচ্ছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ২৪শে গণঅভ্যুত্থানের জুলাই আন্দোলনের পক্ষে নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নেওয়া। ইব্রাহিমের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করতে হবে এবং তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। 

‎এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। স্থানীয়রা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

এএন