ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে হাসপাতাল প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠক শেষে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বৈঠক শেষে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে সব পক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা জরুরি বিভাগের সেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে।
বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসা এবং একটি নির্দিষ্ট ইনজেকশন (নেলবান) হাসপাতালে না থাকায় সেটি বাইরে থেকে কেনাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ইনজেকশনটি সহজে খুঁজে না পেয়ে সহপাঠীরা চিকিৎসকের কাছে ফিরে এলে তর্কের সৃষ্টি হয়, যা পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। নিরাপত্তার অভাবে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে দিলে কয়েক ঘণ্টা সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, প্রেসক্রাইব করা ওষুধটি প্যাসিডিন জাতীয় হওয়ায় সাধারণ দোকানে পাওয়া যাচ্ছিল না। চিকিৎসকদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থেই গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের আশ্বাসে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তারা পুনরায় কাজে ফিরেছেন।
বর্তমানে হাসপাতাল চত্বরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখছে।
জেএইচআর