জিয়া সরণি খাল পুনরুদ্ধারে ডিএসসিসির ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালামের বিশেষ উদ্যোগে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘জিয়া সরণি খাল’ পুনরুদ্ধার ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।

শনিবার খালের বর্তমান অবস্থা ও পরিষ্কার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জনভোগান্তি দূর করতে আমরা এই খালটিকে চলাচলের উপযোগী ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ শুরু করেছি। বর্তমানে পানিপ্রবাহের দিক পরিবর্তন করে বুড়িগঙ্গা নদীর সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়। এই প্রকৌশলগত পরিবর্তনের ফলে নিষ্কাশন পথ কমে আসবে এবং এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হবে।

 তিনি আরও জানান, ডিএসসিসি’র নিজস্ব অর্থে বর্তমানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও প্রাথমিক পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ডিএসসিসি’র সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জিয়া সরণি খালকে পুনরুদ্ধারে ডিএসসিসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

এই খালকে বুড়িগঙ্গার সাথে সংযুক্ত করতে ইতিমধ্যে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাস থেকে স্থায়ী গাইডওয়াল নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এছাড়া প্রশাসক আব্দুস সালামের দায়িত্ব গ্রহণের পর ৯০০ কোটি টাকার শ্যামপুর খাল উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। এখানে আধুনিক নেটিং ব্যবস্থা ও হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হবে। প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় জনস্বার্থ রক্ষায় ডিএসসিসি কাজ করে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, বিগত সরকার কেবল ‘জিয়া’ নামের কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এই খালটি অবহেলা করেছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

খাল পরিচ্ছন্ন রাখতে স্থানীয় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ময়লা সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত ড্রামে ফেলুন। আমরা প্রতিটি ব্লকে সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন করব, যারা ডিএসসিসি প্রশাসকের সাথে সমন্বয় করে খালের রক্ষণাবেক্ষণ মনিটর করবেন।

ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সিএস পর্চা ও ম্যাপ অনুযায়ী খালের জায়গা দখলমুক্ত করা হবে। অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং বিদ্যমান আইনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ৬ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরবর্তীতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রশাসক কুতুবখালী খাল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি এর উপস্থিতিতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় আজ বিকেলে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, জনগণ সচেতন না হলে কেবল সিটি কর্পোরেশনের ওপর দায় চাপিয়ে পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়া সম্ভব হবে না। এ সময় তিনি সুনাগরিক হিসেবে সপ্তাহে ১ ঘণ্টা স্বেচ্ছাশ্রম প্রদানের জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান। 

পৃথক কর্মসূচিতে, ইস্কাটন এলাকায় সকালে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। এ সময় সচিব নিবাস ওয়ালফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে যানজট ও জনভোগান্তি নিরসনে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদে টানা তৃতীয় দিনের মতো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ডিএসসিসি। এ সময়, ৩০টি অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদপূর্বক সিলগালা করে দেওয়া হয়।

জেএইচআর