শিশুদের হাম-রুবেলা রোগ প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০টি অঞ্চলে একযোগে ৫৯৯টি কেন্দ্রে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬’ শুরু হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কড়াইল এলাকায় এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন চলবে আগামী ১১ মে ২০২৬ পর্যন্ত। এর মাধ্যমে ডিএনসিসি এলাকার প্রায় ৫ লক্ষ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুকে অবশ্যই এই টিকা দিতে হবে। দেশের ১৭টি উপজেলা ও ৪টি সিটি কর্পোরেশনে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী ২০ তারিখ থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান, মহাখালী ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নগরবাসী আরও উন্নত ও বহুমুখী স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।
ক্যাম্পেইনের বিস্তারিত তথ্য:
বয়সসীমা: ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশু এই টিকার আওতায় আসবে।
কেন্দ্রের বিবরণ: ডিএনসিসি এলাকায় ৫৪টি স্থায়ী এবং ৫০২টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। কর্মজীবী অভিভাবকদের সুবিধার্থে ৩৫টি ইভিনিং সেন্টার ও ৮টি ফ্রাইডে সেন্টার (শুক্রবার) খোলা থাকবে।
জনবল: ক্যাম্পেইনটি সফল করতে ৫৯৪ জন টিকাদানকর্মী, ৬৫০ জন ভলান্টিয়ার এবং ২০৩ জন সুপারভাইজার মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডিএনসিসি প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা মোঃ আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি এলাকার সকল অভিভাবককে তাঁদের শিশুদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে এসে টিকা প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জেএইচআর