৭ জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের প্রাণহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক  প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

দেশের বিভিন্ন জেলায় রোববার ২৬ এপ্রিল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধায় ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জন, জামালপুরে ২ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, বগুড়ায় ১ জন, নাটোরে ১ জন এবং পঞ্চগড়ে ১ জন রয়েছেন।

গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বিকেলে বজ্রপাতে ফুয়াদ (১৪), রাফি (১২) ও মিজানুর (২০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন শামীম (১৮)। একই ঘটনায় একটি গরুও মারা যায়।
এছাড়া ফুলছড়ির জামিরা চরে ঘোড়ার গাড়ি চালানোর সময় বজ্রপাতে মানিক হোসেন (২২) ঘোড়াসহ মারা যান। সাঘাটা উপজেলায় নম্বার আলী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ বজ্রপাতে নিহত হন। পৃথক ঘটনায় একজন কৃষক আহত হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তাড়াশে মাঠে কাজ করার সময় কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) এবং রায়গঞ্জে ধান জড়ো করার সময় হাসান শেখ (২৫) মারা যান।

জামালপুর

জামালপুর সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রপাতে গৃহবধূসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার চর এলাকায় গরু চরাতে গিয়ে হাসমত আলী হাসু (৫৫) এবং মেলান্দহে বাড়ির উঠানে রান্নার সময় মর্জিনা আক্তার (২২) মারা যান। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

বগুড়া

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে লাবণী আক্তার (৩৫) ও ইলিয়াস আলী (৩৭) নিহত হয়েছেন। তারা দুজনই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নাটোর

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে চা-বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুইজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্তৃপক্ষ সবাইকে খোলা স্থানে অবস্থান না করার এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

এম জি