মিরপুরে হারানো ‎ব্যাগভর্তি টাকা-মোবাইল অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিল পুলিশ

রুমান হাসান তামিম, মাল্টিমিডিয়া প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের হারানো নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত সামগ্রী অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়ে সততা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল ইসলাম।

সোমবার বিকালে মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় সেখানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাইমারি সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনে ডিউটিরত ছিলেন এসআই রাকিবুল ইসলাম। দায়িত্ব পালনের একপর্যায়ে হঠাৎ তিনি একটি লেদারের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। সহকর্মীদের সাথে আশপাশে খোঁজ নিয়েও মালিকের সন্ধান না পেয়ে ব্যাগটি নিরাপদে নিজের জিম্মায় রেখে দেন এবং অপেক্ষা করতে থাকেন কেউ হয়তো ফোন করবে, কেউ হয়তো খুঁজতে আসবে।

অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত ওই প্রধান শিক্ষক একটি ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষে নিকটস্থ একটি মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য যান। তার সঙ্গে থাকা লেদারের ব্যাগে ছিল একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক এবং নগদ ৪৫ হাজার ৩০০ টাকা। যাত্রাপথের কোনো এক সময়ে তিনি অসাবধানতাবশত ব্যাগটি হারিয়ে ফেলেন।

নামাজ শেষে হঠাৎ টাকার কথা মনে পড়লে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিষয়টি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে জানালে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। মসজিদের ওয়াশরুম থেকে শুরু করে আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও ব্যাগটির কোনো সন্ধান মেলে না। পরে প্রধান শিক্ষকের দেওয়া নম্বরে কল করা হলে অপর প্রান্তে ভেসে আসে পুলিশের কণ্ঠ; সেই কলটি রিসিভ করেছিলেন এসআই রাকিবুল ইসলাম। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে আসার জন্য নির্দেশনা দেন। পরে যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে অবসরপ্রাপ্ত ওই প্রধান শিক্ষকের হাতে তার হারানো লেদারের ব্যাগ, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সামগ্রী সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় তুলে দেন।

হারানো সম্পদ ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই প্রধান শিক্ষক। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, আমি সত্যিই ভেবেছিলাম আমার টাকাগুলো আর ফিরে পাব না। নামাজ শেষে মনে পড়ার পর খুবই দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশের এমন সততা আমাকে নতুন করে আশ্বস্ত করেছে। আমি তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

ঘটনায় সহযোগিতা করা মসজিদের মুয়াজ্জিন বলেন, চাচা (প্রধান শিক্ষক) খুবই চিন্তিত ছিলেন। আমরা মসজিদের সব জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। পরে নম্বরে ফোন করলে পুলিশ রিসিভ করে। তখনই বুঝতে পারি ব্যাগটি নিরাপদেই আছে। পুলিশের এই দায়িত্বশীলতা সত্যিই প্রশংসনীয়।

এ বিষয়ে এসআই রাকিবুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে ডিউটি করছিলাম। হঠাৎ করে রাস্তায় একটি লেদারের ব্যাগ দেখতে পাই। হাতে নিয়ে দেখি ভিতরে একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক ও ৪৫ হাজার ৩০০ টাকা। তখন আমি আমার সহকর্মীসহ আশপাশে সবাইকে জানাই। খোঁজাখুঁজি করেও কাউকে না পেয়ে মোবাইলে কলের জন্য অপেক্ষা করি। পরবর্তীতে একটি কল আসে এবং আমি তাদেরকে ঠিকানা দেই। আমি সঠিক মানুষকে এগুলো ফেরত দিতে পেরে খুবই খুশি এবং গর্বিত। বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় মানুষের পাশে আছে, তাদের সেবার জন্য বদ্ধপরিকর।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ পুলিশের এই সততা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন। এমন উদাহরণ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করে।

জেএইচআর