মিরপুরে হজরত শাহ আলী (র.) মাজারে হামলার ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জন জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাজারের নিয়মিত ভক্ত ও দর্শনার্থী রেসমি বেগম বাদী হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় শাহ আলী থানায় এই মামলাটি করেন।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতের ওই হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন- মো. আলী আকবর, মো. বাপ্পা, মো. বাবু, মো. কাউসার, আজম, শেখ মো. রাসেল, কাজী জহির, মো. মিজান এবং কাজী পনির। তাঁরা সবাই শাহ আলী থানা এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আজম ও রাসেল এজাহারভুক্ত এবং আরমান দেওয়ান নামের একজন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শাহ আলীর মাজারে যাতায়াত করছেন। গত ১৪ মে দিবাগত রাতে মাজার জিয়ারত ও মানত করার সময় আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। এরপর তারা জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মাজারের ভক্তদের গুরুতর জখম করার পাশাপাশি গাছের লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মোমবাতির প্লেট ভাঙচুর করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে।
বাদী আরও জানান, তিনি এই হামলায় বাধা দিতে গেলে আসামিরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়। একপর্যায়ে এক আসামি লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এ ছাড়া হামলাকারীরা মাজারের জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেএইচআর