মুগদায় মাথাবিহীন ৭ টুকরা লাশের পরিচয় ও হত্যার কারণ জানালো র‌্যাব

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ১১:০২ এএম

রাজধানীর মুগদা এলাকায় উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে র‌্যাব। নিহত ব্যক্তি সৌদি আরবপ্রবাসী মুকাররম বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ সম্পর্কেও প্রাথমিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সোমবার র‌্যাব-৩ এর উপ-পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার সাইদুর রহমান জানান, পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মুকাররম হত্যার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রেমিকা ও ওই নারীর এক বান্ধবী পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে পাঁচ লাখের বেশি টাকা আত্মসাৎ করে মরদেহ ৮ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার বিকেলে মুগদার মান্ডা আবদুল গনি রোড এলাকার একটি ভবনের বেজমেন্ট থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় সাত টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টা পর পাশের মানিকনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় মাথার অংশও।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মরদেহের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে ফেলে রাখা হয়েছিল। ঘটনাস্থল দেখে ধারণা করা হচ্ছিল, হত্যাকাণ্ডটি অন্য কোথাও ঘটিয়ে লাশ এনে সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে র‌্যাব। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যরাতে পাশের এলাকা থেকে মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।

মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক অনুপ বিশ্বাস জানান, মাথাটি মানিকনগরের একটি গলির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আর মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, প্রথমে শাহনাজ ভিলা নামের একটি ভবনের বেজমেন্ট থেকে সাত খণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন মাথা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল এবং শরীরের ভেতরের অংশ বেরিয়ে এসেছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ছয় দিন আগে মুকাররমকে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে দেহ খণ্ডিত করে পলিথিনে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়।

উদ্ধার হওয়া দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

এএন