রামিসা হত্যাকাণ্ড, স্বামী সোহেলকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন স্ত্রী স্বপ্না

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী স্বপ্না। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী বিকৃত মানসিকতার অধিকারী এবং বিভিন্ন সময় তিনি তাঁর ওপরও নির্যাতন চালাতেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্ত্রী স্বপ্না দাবি করেছেন, ঘটনার দিন সোহেল তাঁকে একটি ঘরে বন্দী করে রেখেছিলেন এবং শিশু রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে দরজা আটকে দেন। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি বাসার খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে গ্রেফতার করা হলেও স্বামীর সহযোগিতায় জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি বিকাশ এজেন্টের দোকান থেকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সোহেল পেশায় একজন রিকশা মেকানিক এবং তাঁর বিরুদ্ধে নাটোর জেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি বিকৃত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, রামিসার পরিবার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে রামিসার মা অভিযুক্তদের দরজার সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পান।

পুলিশের দাবি, রামিসার মা যখন দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, তখন ভেতরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল। জাকির যাতে পালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য স্ত্রী স্বপ্না ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় দরজা খোলেননি। পরে জাকির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি দরজা খোলেন। এই কারণে ঘটনায় স্বপ্নাকেও সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ।

মেয়ের হত্যার বিচারের দাবিতে আসামি সোহেল, তাঁর স্ত্রী স্বপ্না ও অজ্ঞাত আরেকজনের নাম উল্লেখ করে পল্লবী থানায় মামলা করেছেন রামিসার বাবা। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জেএইচআর