রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানে চলন্ত গাড়ির সামনেই প্রকাশ্য সড়কে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছেন দুই ট্রাফিক কনস্টেবল। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত আচরণের দায়ে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শাস্তির মুখোমুখি হওয়া এই দুই কনস্টেবল হলেন দিলীপ চন্দ্র ও নুরুজ্জামান। শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মইনুল হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২১ মে দুপুরে, গুলিস্তানের জিপিও মোড় চত্বরে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তখন ওই মোড়ে তীব্র গরমের মধ্যে দুজনই দায়িত্ব পালন করছিলেন। সিগন্যাল চলাকালে একটি গাড়ি ছেড়ে দেওয়া বা পার হওয়াকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই দিলীপ ও নুরুজ্জামানের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে হাতাহাতি এবং পরে তা চরম ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। ধস্তাধস্তির তীব্রতায় দুই কনস্টেবলই রাজপথের ওপর আছড়ে পড়েন। প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের এমন মারামারির দৃশ্য দেখে পথচারী ও চালকদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ডিসি মো. মইনুল হক কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সরকারি পোশাক গায়ে জড়িয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় রাস্তার মাঝখানে সহকর্মীদের এমন মারামারি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তীব্র রোদ ও গরমের মধ্যে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের কঠিন বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমনিতেই এই প্রচণ্ড গরমে সূর্যের নিচে ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকাই যেখানে কষ্টকর, সেখানে এই ট্রাফিক পুলিশদের দৈনিক ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে মেজাজ হারানো বা সহকর্মীদের সাথে কথা কাটাকাটি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে তাই বলে প্রকাশ্য সড়কে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়াটা চরম শৃঙ্খলাভঙ্গ।
সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি এই দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই প্রাতিষ্ঠানিক বা বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে বলেও প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। তবে সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় তারা বিধি মোতাবেক নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা বা প্রাপ্য অংশ পাবেন।
এএন