রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটে এবার ক্রেতাদের নজর কাড়ছে রংপুরের ‘বিসমিল্লাহ এগ্রো’ থেকে আনা ৫টি দুম্বা। খামারের স্বত্বাধিকারী মো. নাসিম আলী কোরবানির এই হাটে দুম্বাগুলো বিক্রির জন্য তুলেছেন।
তিনি জানান, আকার ও ওজনের ওপর ভিত্তি করে দুম্বাগুলোর দাম হাঁকা হচ্ছে। এর মধ্যে তুলনামূলক বড় দুটি দুম্বার দাম চাওয়া হচ্ছে প্রতিটি ৫ লাখ টাকা করে এবং বাকি তিনটির প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। তবে হাটে আসা ক্রেতারা এখনো দুম্বাগুলোর দাম ৩ লাখ টাকার নিচে হাঁকছেন বলে জানান এই বিক্রেতা।
গতকাল হাটে আসার পর থেকেই অনেকে দরদাম করছেন জানিয়ে নাসিম আলী আশা প্রকাশ করেন, ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।
শনিবার হাটে আসা আনোয়ার হোসেন নামের এক ক্রেতা একটি দুম্বার দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব করেন। তবে বিক্রেতা এই দামে রাজি না হয়ে দাম আরও কিছুটা বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
দরদাম শেষে ওই ক্রেতা মন্তব্য করেন, হাটে এখনো পর্যাপ্ত দুম্বা না আসায় বিক্রেতা দাম ছাড়ছেন না। ৫টি দুম্বা নিয়ে একাই একচেটিয়া বাজার ধরে রেখেছেন তিনি। তবে আগামী দিনগুলোতে হাটে আরও দুম্বা আমদানি হলে ক্রেতাদের জন্য পছন্দসই দামে কেনা সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাবতলী হাটে শুধু দুম্বাই নয়, গরু ও মহিষের পাশাপাশি ছাগল-খাসির বেচাকেনাও বেশ জমে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খামারি ও ক্রেতাদের উপস্থিতিতে পুরো হাট এখন মুখরিত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্রেতারা হাটের চারপাশ ঘুরে যাচাই-বাছাই করে পশু কিনছেন। হাটে সাধারণ মানের খাসির পাশাপাশি আকর্ষক ও বড় জাতের খাসিও রয়েছে, যেগুলোর দাম ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
ঈদের এখনো কয়েক দিন বাকি থাকায় সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও চাঙ্গা হবে বলে খামারিরা আশা করলেও, এখন পর্যন্ত প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি শুরু হয়নি বলে অনেকে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এএন