মায়ের লাশে পচন

ঘরেই মারা গেছেন, জানেন না যুগ্ম সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সন্তানরা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

ছেলেরা সমাজের উঁচুতলার মানুষ। একজন সরকারের যুগ্ম সচিব, আরেকজন বুয়েটের শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। মেয়ের জামাতাও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। অথচ এই ‘সফল’ সন্তানদের জন্মদাত্রী মা নুরজাহান বেগম (৭৫) নিজের ঘরেই মারা যাওয়ার পর পড়ে রইলেন চরম অবহেলায়।

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে নিজের বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে গত রোববার রাতে এই বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল পেয়ে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন পুরো ফ্ল্যাটে লাশের তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, বৃদ্ধা নুরজাহান বেগম মিরপুরের ওই ফ্ল্যাটে তাঁর মেয়ের সাথেই থাকতেন। কিন্তু ফ্ল্যাটের ভেতরে তাঁকে রাখা হয়েছিল সম্পূর্ণ আলাদা, অগোছালো এবং আবর্জনায় ভরা এক অন্ধকার কক্ষে।

ভয়াবহ ব্যাপার হলো, একই ফ্ল্যাটে বসবাস করেও গত এক সপ্তাহে মায়ের কোনো খোঁজ নেননি মেয়ে বা পরিবারের অন্য সদস্যরা। ওসির দেওয়া তথ্যমতে, কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে গত রোববার এক নার্সকে ডেকে আনা হয়। ওই নার্স কক্ষে ঢুকে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশের প্রাথমিক সুরতহালে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কোনো যত্ন বা পরিচর্যা না পেয়ে ঘরটি যেমন আস্তাকুঁড়ে পরিণত হয়েছিল, তেমনি বৃদ্ধার শরীরও কঙ্কালসার হয়ে গিয়েছিল। মায়ের মৃত্যুর সময় বা কারণ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনা সামনে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে। স্থানীয় একজন বলেন, যুগ্ম সচিব আর বুয়েটের প্রফেসর হয়ে কী লাভ হলো, যদি নিজের মায়ের খবর রাখার মতো যোগ্যতা না থাকে? এরা সমাজের বড় বড় জায়গায় লেকচার দেয়, অথচ নিজেদের মা ঘরের কোণায় পচে মরছে তা জানে না!

পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি অবহেলাজনিত মৃত্যু বা অন্য কোনো সন্দেহজনক আলামত মেলে, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেএইচআর