মিরপুরের ফ্ল্যাট থেকে প্রবীণ নারী নুরুজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই একই এলাকায় আরও এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে প্রশাসন।
বুধবার রাতে একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে সেলিনা আফরোজ (৫৫) নামের ওই নারীর বিবর্ণ ও গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মিরপুর-৬ নম্বরের ওই ফ্ল্যাটে তিনি গত বেশ কয়েক বছর ধরে সম্পূর্ণ একাকী জীবনযাপন করতেন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হানিফ জানান, লাশ উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রয়াত সেলিনা আফরোজের স্বামী ও দুই সন্তান বর্তমানে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। প্রায় এক যুগ আগে তিনি প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন এবং এই ফ্ল্যাটে একা থাকতে শুরু করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, গত ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যবর্তী যেকোনো সময়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
কারণ হিসেবে জানা গেছে, গত ২৬ মে রাতে তাঁর ভাতিজা শেষবারের মতো মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন, এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩১ মে মিরপুরের আরেকটি বাসা থেকে নুরুজাহান বেগম নামের এক বৃদ্ধার গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। ওই প্রবীণ নারীর তিন ছেলের একজন যুগ্ম-সচিব, একজন বুয়েটের অধ্যাপক এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। তাঁর মৃত্যুর পর সন্তানরা সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও মায়ের প্রতি চরম অবহেলা করেছিলেন বলে তীব্র সামাজিক সমালোচনা শুরু হয়।
এএন