বরগুনার বামনা উপজেলার বিষখালী নদীর ফুলঝুড়ি পয়েন্টে খেয়া পারাপারে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খেয়াঘাটের ইজারাদার ফুলঝুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার কবিরের লোকজন এ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন যাত্রীরা জানান, বামনা উপজেলা সদর, রামনা, ডৌয়াতলা, বুকাবুনিয়ায় ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এই খেয়া পার হয়ে বরগুনা জেলা শহরের যাতায়াত করেন। এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া উপজেলা, পাথরঘাটা উপজেলার মাদারতলী, বাগেরহাট জেলার রায়েন্দা শরণখোলা থেকে আসা যাত্রীরা প্রতিদিন এই পথে বরগুনা, পায়রাবন্দর, কুয়াকাটা, পটুয়াখালী যাতায়াত করেন। কিন্তু খেয়াঘাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার কবির এর লোকজন কয়েক মাস ধরে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ টাকার ভাড়া ২৫ টাকা আদায় করছেন। এছাড়াও এই খেয়ায় ৫ বছরের নিচে শিশু ও প্রতিবন্ধীদের কাছ থেকেও খেয়া ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
এই খেয়ায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী দক্ষিণ রামনা গ্রামের মো. ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, তার বাড়ি ফুলঝুড়ির অপর প্রান্তে দক্ষিণ রামনা গ্রামে। ফলে তাকে প্রায় প্রতিদিন ফুলঝুড়ি হাটে বাজার করতে যেতে হয়। গত সোমবার তার এক আত্মীয় ১০ টাকার কমলি শাক একটি ব্যাগে পার করেন। ওই শাকের ব্যাগের জন্য খেয়াঘাটে ২০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে।
এই খেয়া পার হওয়া আরেক যাত্রী শিশু শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী শিমুল মিয়া বলেন, আমি গত পরশু খেয়া পার হইছি। আমার কাছে খেয়ার মানুষে ভাড়া চাইছে। আমার ধারে কোন টাহা আছেলে না। আমি টাহা না দেওয়ায় আমার একটা ব্যাগে কয়েকটা আমরা আছেলে ওরা হেই আমরা রাইখা দেছে।
দক্ষিণ রামনা খেয়া ঘাট থেকে বামনায় চলাচলকারী মাহিদ্র চালক মো. আনসার মিয়া বলেন, প্রতিদিন এই খেয়াঘাটের ইজারাদারদের স্বেচ্ছাচারিতা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা যাত্রীরা আমাদের কাছে জানায়। এরা সবচেয়ে বেশী খারাপ আচরণ করে নারী যাত্রীদের সাথে।
খেয়াঘাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ফুলঝুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার কবির বলেন, আমার নামে এই ঘাটটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। যারা বর্তমানে ভাড়া আদায় করে তারা এমন ঘটনা ঘটনালে আমি ব্যবস্থা নিবো।
এ ব্যপারে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সরকার বলেন, ফুলঝুড়ি- রামনা খেয়ায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি। এনিয়ে মাসিক আইনশৃংখলা সভায় আলোচনা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো।
বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, খেয়াঘাট কর্তৃপক্ষ জেলা পরিষদের নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত কোন ভাড়া আদায় করতে পারবে না। যদি তাদের অনিয়ম পাওয়া যায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এসএম