গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) শূন্য আসনে চলছে ভোট গ্রহণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৩, ১০:৩৮ এএম

ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হওয়া দেশের বহুল আলোচিত গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) শূন্য আসনে দ্বিতীয় দফার উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে শুরু হয় ভোট। ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে প্রতিটি কেন্দ্রে সকাল সকাল ভোটারদের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে। ভোট শুরুর পর ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এম,এ,ইউ একাডেমি কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে এমন চিত্রের পরিবর্তন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হওয়া এই ভোট চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এসময় এই আসনের দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ১৪৫টি ভোট কেন্দ্রে নারী-পুরুষসহ ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৩ জন ভোটার ইভিএমে (ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন) তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে আসনের ১৪৫ টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্র ও কক্ষেই বসানো হয়েছে ১ হাজার ২৪২টি সিসিটিভি ক্যামেরা।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয় ইভিএমসহ নির্বাচনী সকল সরঞ্জাম। ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে এসব সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ট্রাক এবং পিকআপ ভ্যানযোগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা দেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা। বিকেল চারটার মধ্যেই চরাঞ্চলসহ সব কেন্দ্রেই নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছায় বলে জানায় রিটার্নিং কর্মকর্ত ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা।

এদিকে, এ আসনের নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রচারনায় মাঠে সক্রিয় ছিল কেবল আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী এএইচএম গোলাম শহিদ রঞ্জু (লাঙ্গল)। ভোটের মাঠে প্রচারণায় দেখা যায়নি বিকল্পধারা বাংলাদেশের জাহাঙ্গীর আলম (কুলা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মাহবুবুর রহমানকে (ট্রাক)। এরমধ্যে সাজানো ভোটের কারচুপির আশঙ্কার অভিযোগ তুলে গত ২৫ ডিসেম্বর ভোট বর্জন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ।

অপরদিকে, সুষ্ঠভাবে ভোটগ্রহণে সব ধরণের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম। তিনি আমার সংবাদকে জানান, শতভাগ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের জন্য কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি, ইভিএমসহ সকল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে ১৪৫টি ভোট কেন্দ্রেই স্থাপন করা হয়েছে বারো শত ৪২টি সিসি ক্যামেরা। যা পর্যবেক্ষণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাবের ৯টি টিম, ৪ প্লাটুন বিজিবি, ৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে ৬টি মোবাইল টিম মাঠে কাজ করছে।

অন্যদিকে, নির্বাচনের দিন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার কামাল হোসেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ করতে মাঠে থাকবেন বিজিবি, র‍্যাবের মোবাইল টিম, পুলিশের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

এরআগে, আসনের সাংসদ ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি দূরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০২২ সালের ২২জুলাই আমেরিকার মাউনসিনাই হাসপাতালে চিকিৎসীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর ২৪ জুলাই আসনটি শূন্য ঘোষনা করে সংসদ সচিবালয়। নিয়ম অনুযায়ী শূন্য আসন ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন দেয় নির্বাচন কমিশন।  সে অনুযায়ী গত বছরের ১২ অক্টোবর প্রথম দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রথমে গোপন কক্ষে একাধিক ব্যক্তি প্রবেশ করায় ভরতখালি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, ফুলছড়ি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং সাঘাটা উপজেলার রামনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে দফায় দফায় ৫১টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে ইসি। পরে অনিয়মের ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ৫১টি ভোটকেন্দ্রের ঘটনা তদন্ত করে গত ২৭ অক্টোবর ইসিকে প্রতিবেদন দেয়।

পরে বাকি ৯৪টি ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম ছিল কিনা, তা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয় ইসি। ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় কমিটি ওই প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তে ১২৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পাঁচটি কেন্দ্রের পাঁচজন পুলিশ উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। তদন্ত শেষে ৬ নভেম্বর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আগামীকাল ৪ জানুয়ারি গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে তারিখ ঘোষণা দেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম।

এবি