একই স্টাইলে চুরির হিড়িক

ফরিদগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সাংবাদিকের বাড়িতে চুরি

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৩, ০৮:১৯ পিএম
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার পশ্চিম বড়ালি গ্রামের পন্ডিত বাড়িতে চুরি হওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

গ্রিল কেটে প্রায় একই স্টাইলে ফরিদগঞ্জে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং এক সাংবাদিকের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে উপজেলা সদরের ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের ভিতরের আলমিরা ভেঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে যায় চোরের দল। তবে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তেমন বেশি কিছু নিতে পারে নি।

জানা যায়, শনিবার (১২ আগস্ট) গভীর রাতে ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের জানালার গ্রীল কেটে চোরের দল  ভিতরে প্রবেশ করে তিনটি স্টিলের আলমিরা এবং টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে তচনছ করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলেয়া বেগম জানান, রোববার (১৩ আগস্ট) সকালে তিনি তার কক্ষের দরজা খুলে ভিতরের জিনিসপত্র তচনছ অবস্থায় দেখতে পান। তার টেবিলের সকল ড্রয়ার ভাঙা খোলা ছিল। তিনটি আলমিরার খোলা অবস্থায় ছিল। আলমিরার ভিতর থেকে বিভিন্ন ফান্ডের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা চুরি হয়।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম রিপন জানান, প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ বাইরের সকল কিছুই অক্ষত রয়েছে। কিন্ত কক্ষের ভিতরের জানালার গ্রিল কাটা অবস্থায় আমরা দেখতে পাই। রোববার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে শনিবার (১২ আগস্ট) রাতে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক আমার সংবাদের অনলাইন ইনচার্জ আতাউর রহমান সোহাগের গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার পশ্চিম বড়ালি গ্রামের পন্ডিত বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।

সাংবাদিক সোহাগের ছোট ভাই সোহেল হোসেন জানায়, দুপুরের খাবার পর্যায়ক্রমে সে এবং তার ছোট ভাই এবং মা খায়। খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই তাদের ঘুমে আছন্ন করে ফেলে।

রাত প্রায় দুইটার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে সোহেল জেগে উঠে। এসময় সে ঘরের দুটি দরজাই খোলা দেখতে পায়। কিছু না বোঝায় সে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায় তাদের বসত ঘরের একটি জানালার গ্রিল কাটা। দরজার মধ্যে তালা নেই। দরজার চাবি এবং ছোট ভাই শামীমের ম্যানিব্যাগ বাড়ি থেকে দুরে খুজে পায়। তবে চোরের দল তেমন কিছুই নিতে পারে নি। তারা ধারনা করছেন, দুপুরের খাবারের সঙ্গে কে বা কারা নেশা জাতীয় কিছু মিশিয়ে চুরি করে। পুলিশ রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়া মা ও দুই ভাই ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।

একই রাতে ফরিদগঞ্জ বালিকা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও সিড়ির কক্ষের জানালার গ্রীল কেটে চোরের দল ভিতরে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের তালা ভেঙে একই কায়দায় আলমিরা ভেঙে জিনিসপত্র তচনছ করে। আলমিরায় থাকা দুটি ল্যাপটপ বিদ্যালয়ের এককোনে পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রাব্বানী বলেন, চোরের দল হয়তোবা অর্থের লোভে এসেছিল। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় আর কোন কিছুতেই হাত দেয় নি।

এসএমসির সভাপতি মোশারফ হোসেন নান্নু বলেন, চোরের দল টার্গেট করেই চুরি করতে এসেছে। আলামতে তা বলে। তারা আলমিরার জিনিসপত্র তচনছ করলেও কোন কিছুই নেয় নি। ল্যাপটপ দুটি আলমিরা থেকে নিয়ে সিড়ির বিদ্যালয়ের এককোনে ফেলে রাখে। একই স্থানের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক রাতে চুরির ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। 

একই রাতে  উপজেলার চরদু:খিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব আলোনিয়া গ্রামে চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিন তার নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে উপজেলার লতিফগঞ্জ মাদ্রাসাতেও একই কায়দায় চুরি হয়েছে। মাদ্রাসার সহকারি অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে মাদ্রাসা জানালার গ্রিল কেটে চোরের দল আলমিরা থেকে নগদ কিছু অর্থচুরি করে। তবে মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী জেগে উঠে চুরির ঘটনা দেখতে পেলেও কাউকে দেখতে পায়নি। রোববার সকালে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ আ. মান্নান জানান, চুরির সংবাদ পেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল স্থানেই পুলিশ গিয়েছে। শনিবার রাতে প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হওয়ায় চোরের দল চুরির ঘটনা ঘটনায়। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তিনি আরো বলেন, চুরিসহ অপরাধ রোধে  জনপ্রতিনিধিদের আরো সক্রিয় হতে হবে। এলাকার চিহ্নিত অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে পুলিশকে সহযোগিতা করা উচিত।

আরএস