ফেনীতে দুই মাস ধরে ভিজিডির চাল পায়নি সহস্রাধিক পরিবার

ফেনী প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৩, ০৭:১১ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের গরীব, অসহায় দু:স্থ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০৫০টি পরিবার গত জুলাই ও আগষ্ট মাসে বিনামূল্যে ভিজিডির ৩০ কেজি করে চাল পাইনি।

দুই মাস পেরিয়ে চলতি মাসের ১৫দিন শেষ হয়ে গেলেও চাল না পেয়ে ভিজিডির কার্ডধারী এসব দুস্থ নারীরা হতাশায় রয়েছেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, দেশের গ্রামীণ দুস্থ নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর ভিজিডি) আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে এক হাজার ৫০ জন উপকারভোগী দুস্থ অসহায় পরিবার রয়েছে।

সরকারের এ প্রকল্পের আওতায় ভিজিডির কার্ডধারী নারীরা প্রতি মাসে স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরকারিভাবে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল পেয়ে থাকেন। তবে জানুয়ারী মাস থেকে জুন পর্যন্ত প্রতিমাসে নিয়মিত চাল পেলেও তারা গত জুলাই ও আগষ্ট মাসের চাল পাননি।

তবে দ্রুত চাল পাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার।

উপজেলার দক্ষিণ চর চান্দিয়া এলাকার ভিজিডির কার্ডধারী নাছিমা বেগম নামে এক নারী বলেন, তার স্বামী অসুস্থ্য হওয়ায় হাঁটতে-চলতে পারে না।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ায় তার চাল কিনতে হয় না। বড় কোন ছেলে না থাকায় তিনি বিভিন্ন বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে উপার্জিত টাকা দিয়ে কোন রকম সংসার চালান।

তিনি আরও জানান,গত দুইমাস ধরে চাল না পেয়ে তিনি বেকায়দায় পড়েছেন। চলতি মাসের চালও পাননি। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি হওয়ায় আয়ের টাকা দিয়ে চাল কেনার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কিনতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গরীব, অসহায়, দুস্থ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১১৬ পরিবারের মধ্যে ভিজিডির মাসিক ৩০ কেজি করে চাল পেয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, জুন ক্লোজিংয়ের সময় কিছু সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় গত দুই মাস তার ইউনিয়নের নারীরা চাল পেয়ে অনেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

তাঁর দাবি, তিনিও বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে চাল বিতরণ কার্যক্রম চালু করার জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে বলেছেন।

তবে, গত বৃহস্পতিবার চালের অনুমতিপত্রে চেয়ারম্যানরা স্বাক্ষর করায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ জটিলতা কেটে দ্রুত চাল পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, প্রতি বছর জুন ক্লোজিংয়ের কারণে দুই-তিনমাস চাল পেতে একটু দেরি হয়। পরে জুলাই, আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের চালের অনুমোদন এক সঙ্গে হয়ে থাকে। তবে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্যগুদামে ভিজিডির তিন মাসের চালের (ডিও) পত্র দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬-২৭ তারিখের মধ্যে উপকারভোগী নারীরা এক সঙ্গে তিনমাসের চাল পাবেন।

এআরএস