‘দাফনের’ পাঁচদিন পর জীবিত ফিরলেন গৃহবধূ

ফরিদপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৩, ০২:৪৮ পিএম

ফরিদপুরের সদরপুরে নিখোঁজের ১৫ দিন পর লাশ উদ্ধার এবং লাশ দাফনের ৫ দিন পর হাসি বেগম(২৪) নামে এক নারীকে জীবন্ত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। হাসি বেগম উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শৌলডুবী গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই)মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে হাসি বেগমকে  আটক করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসেন। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাসি বেগম নিখোঁজ হন। গত ২০ সেপ্টেম্বর তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে শৌলডুবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে, এলাকাবাসী প্রশ্ন, তাহলে গত পাঁচদিন আগে শৌলডুবী গ্রামে দাফন করা লাশটি আসলে কার? কোথাকার কোন হতভাগ্য নারী ভাঙ্গা উপজেলার নাউটানা কুমের ভেতর কচুরিপানার নিচে মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করল?

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ বছর পূর্বে একই উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বড় বাড়ির মৃত শাহাআলম শেখের ছেলে মোতালেব শেখের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় হাসি বেগমের। তাদের হুসাইন নামক ৭ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর হাসি বেগম তার শশুর বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার কথা বলে সদরপুর আসার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয় হাসি বেগম।

এ ঘটনায় হাসির বাবা শেখ হাবিবুর রহমান গত ১১ সেপ্টেম্বর সদরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তার মেয়ে হাসি বেগমকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে জামাতা মোতালেব শেখ (৪৫)। পরবর্তীতে দুই দিন পর ১৪ সেপ্টেম্বর হাসির স্বামী মোতালেব শেখ সদরপুর থানায় পাল্টা একটি অভিযোগ দায়ের করেন এবং অভিযোগে উল্লেখ করেন তার স্ত্রী হাসি বেগম নগদ টাকাসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে বাবার বাড়িতে পালিয়ে গেছে।

এদিকে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের আদমপুর এলাকার নাউটানা এলাকায় কচুরিপানার ভেতর থেকে একটি অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। পরবর্তীতে নিখোঁজ হাসি বেগমের মা সালমা বেগম লাশের কোমরে একটি তাবিজ ও পায়ের একটি আঙুল ছোট থাকায় নিখোঁজ হাসি বেগমের লাশ হিসেবে শনাক্ত করলে ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার পর শৌলডুবী মদিনাতুল কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

অপরদিকে, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ চলা অবস্থায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর হাসি বেগম ফোন করে তার বাবা-মাকে জানায় সে জীবিত আছে। পরবর্তীতে সোমবার সদরপুর থানা পুলিশ হাসি বেগমকে ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে জীবিত উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে হাসি বেগমের বাবা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে মোবাইল নাম্বারটা বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পারিবারিক একটি সূত্র জানায়, পরকীয়ার কারণে হাসি বেগম তার প্রেমিক ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুস্তাকিমের বাড়িতে চলে যায়।

এ ব্যাপারে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. খবির মোল্যা বলেন, এরকম খবর শুনেছি। তবে ঘটনাটি আমার পাশের ওয়ার্ডের ঘটনা। হাসি বেগম যদি জীবিত ফেরত আসে তাহলে পাঁচদিন আগে কার লাশ দাফন করা হলো?

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. গফফার শিকদার বলেন, এর আগে জানতে পারি নিখোঁজের পর হাসি বেগমের লাশ পাওয়া গেছে এবং পরবর্তীতে তার পরিবারের লোকজন হাসির লাশও দাফন করে। হঠাৎ আবার জানতে পারলাম হাসি বেগম মারা যায়নি। পুলিশ তাকে জীবিত উদ্ধার করেছে। সে নাকি থানায় আছে। বিষয়টি জটিল মনে হচ্ছে। তাহলে গত কয়েকদিন আগে তার পরিবার কার লাশ দাফন করলো? 

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সদস্য, এখলাছ আলী বলেন, এ রকম একটি ঘটনা লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু বিস্তারিত তথ্য জানতে পারিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন আল রশিদ বলেন, হাসি বেগমকে ময়মনসিংহের নান্দাইল এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানায় আছেন। এখনই এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব নয়। উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো যাবে। ঘটনাটি ভাঙ্গা ও সদরপুর থানার জড়িয়ে। পূর্ণ তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

 নয়ন/এআরএস