সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মধ্যযুগীয় কায়দা সুদের টাকার জন্য এক মুন্ডা পরিবারের ঘর ও ভিটা দখলের অভিযোগ উঠেছে ৷
উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চী গ্রামে সুদের টাকার কারনে এক মুন্ডা পরিবার নিঃস্ব হয়েছে বর্তমানে পরিবারসহ নিখোঁজ আছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চ্যলর সৃষ্টি হলে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে সরজমিনে জানাযায়, কালিঞ্চী গ্রামের সতীষ মুন্ডা, তার বাবা রনজিৎ মুন্ডা, স্ত্রী সেফালী মুন্ডা, মেয়ে স্মৃতি মুন্ডা এবং ছেলে অভিজিৎ মুন্ডা সুদের টাকার কারনে ভিটাবাড়ী হারিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছে ।
ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ গোপাল মুন্ডা বলেন , সতীষ মুন্ডার পিতা রনজিৎ মুন্ডা ২০২০ সালে টেংরাখালী গ্রামের মৃত মান্দার গাজীর ছেলে আনিছুর রহমানের কাছ থেকে ৭৬ হাজার ৫শ টাকা বছরে ৪ হাজার টাকা হারী হিসাবে নেন। টাকা দেওয়ার সময় আনিছুর সু-কৌশলে রনজিৎ মুন্ডার কাছ থেকে ১৫০ টাকার নন জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে টিপ সহি নেওয়াসহ বন্দোবস্ত জমির দলিলটাও নিয়ে রাখে । সতীষ মুন্ডা প্রতি বছর আনিছুরকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে আসছিলো। কিন্তু বর্তমানে আনিছুর সেই স্ট্যাম্পের বলে রনজিৎ মুন্ডার ১১ কাটা জমি লিখে দিয়েছে বলে, তার বসত ভিটা জবর দখলসহ পুকুর খনন করে ।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ বৃহস্পতিবার স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আজগর বুলু, প্রাক্তন ইউপি সদস্য আব্দুল গফ্ফার তরফদারসহ গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে শালিসসহ বসত ভিটার মাপ জরিপ করা হয়।
মাপ জরিপ করে রনজিৎ এর বসত ঘরের বারান্দায় সীমানা করা হয়। মাপ জরিপের পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে সতীষ মুন্ডাসহ তার পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ হয়। বর্তমানে তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানান সতীষ মুন্ডার প্রতিবেশিরা।
সতীষ মুন্ডার পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ হওয়ার পর হতে স্থানীয় সুদ ব্যবসায়ী মৃত ছমির উদ্দীনের ছেলে আবুল কালাম , আরশাদ শেখের ছেলে আকবার শেখ , মৃত ফকির মোল্যার ছেলো নূরালী মোল্যা , মোমিন কাগুচীর ছেলে মহরম কাগুচী , নূরালী গাজীর ছেলো আব্দুল আজিজ সুদের টাকার জন্য তার বাড়ীতে পায়তারা করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় মনোরঞ্জন মুন্ডা ও আবু নুর আলম মোল্যা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে সতীষ মুন্ডা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আনিছুর আমার ভিটাবাড়ী নিয়ে নিয়েছে। আমি পরিবার নিয়ে থাকব কোথায়। পরদিন সকাল থেকে সতীষসহ তার পরিবারের কারও সন্ধান মেলেনি। এ বিষয়ে আনিছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আজগর বুলু বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় আমি সতীষ মুন্ডা ও আনিছুরের শালিসে গিয়ে ছিলাম। মাপ জরিপের পরে সতীষ মুন্ডা সেটি মেনে না নেওয়ায় পরবর্তীতে আবারও মাপজরিপসহ শালিশের দিন ধার্য্য করা হয়।
রমজাননগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আল মামুন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমরা চেষ্টা করছি তাদের খোঁজার ৷ তবে তাদের না পাওয়া পর্যন্ত ভালো ভাবে জানাযাবে না । শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করিনি। অভিযোগ পেলে অবশ্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো ৷
/বিআরইউ