সিজারের পর মূত্রনালীসহ সেলাই, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে প্রসূতির মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৪, ০৩:২৫ পিএম
ছবি: আমার সংবাদ

কিশোরগঞ্জে পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর হয়েছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৯ লাখ টাকা দেয়ার আশ্বাসে প্রসূতির পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি মিমাংসা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, গত ২০ মার্চ রাতে প্রসব ব্যথা উঠলে চরশোলাকিয়া এলাকার দিনমজুর শহীদুল্লাহ’র (২২) স্ত্রী মেহজাবিন (২০) কে নেয়া হয় শহরের পুরানথানা এলাকার পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার পর প্রসূতির অবস্থা খারাপ হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে গত শুক্রবার ২৯ মার্চ দুপুরে মৃত্যুবরণ করে মেহজাবিন।

মেহজাবিনের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ডাক্তারদের অবহেলার কারণেই মেহজাবিনের মৃত্যু হয়েছে। কারণ তার সিজার অপারেশন করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসক। অপারেশনের পর তার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। মূত্রনালীসহ সেলাই করে ফেলায় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলে যায়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

গত শুক্রবার বিকালে মেহজাবিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বিক্ষুব্ধ স্বজনরা পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরে রাতে মেহজাবিনের জানাজা শেষে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাসপাতালের সামনে গিয়ে আবারো ন্যায় বিচারের দাবিতে একত্রিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে রাতেই স্থানীয় কাউন্সিলর সুলতান মিয়াসহ এলাকার অন্যান্যরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বসে ৯ লাখ টাকায় বিষয়টি মিমাংসা করেন। ঈদের আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৯ লাখ টাকা পরিশোধের কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য হাসপাতালের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের ফোনে একাধিকবার ফোন করেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তুফা বলেন, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় নি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়নি। তবে আমরা পদ্মা জেনারেল হাসপাতালটি রোববার পরিদর্শন করেছি। আমাদের কাছে অনুসন্ধানের ফলাফল রয়েছে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিবো।

এআরএস