হাসপাতালে পানির সংকট, বন্ধের পথে চিকিৎসা সেবা

পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৪, ০৭:১০ পিএম

নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ১৬ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পানির পাম্প বিকল হওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাসপাতালের রোগীসহ চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একমাত্র পানির উৎস একটি পাম্প, সেটি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ২১ মার্চ থেকে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ১৬ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন।

৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকা সত্ত্বেও ও বর্তমানে পুরুষ ওয়ার্ডে ৪ জন ও মহিলা ওয়ার্ডে ৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনরা বাইরে থেকে দোকান, পুকুর ও টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে ব্যস্ত। পানি সংকটে শৌচাগারে পানি ব্যবহার কম হওয়ায় চারদিকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। সব মিলিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, পানি সরবরাহ না থাকায় হাসপাতালের আবাসিক এলাকায় চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে ৩৫টি পরিবার এখানে আবাসিক ভবনে বসবাস করে। এতে শৌচাগারসহ খাবারের পর্যাপ্ত পানি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। রোগীদেরতো অবস্থা আরও খারাপ। হাসপাতালের মেঝে পরিষ্কার এবং রোগীদের বিছানার চাদর ও অন্যান্য কাপড়ও পরিষ্কার করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

বহির্বিভাগের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রয়োজনে পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরাও চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এ বিষয়ের জানতে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলে ও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

পরে মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলেও এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি ৫৫ বছর বয়সী নজরুল ইসলাম ও নাজির উদ্দিন খান জানান, কিডনি সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ৪ দিন ধরে এ হাসপাতালে আছেন। পানি না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। শিগগিরই চলে যাবেন বলেও জানান তারা।

শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত মহিলা ওয়ার্ডের তৌহিদা ও জেসমিন জানান, ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেখছি পানি নেই। বাথরুমে যেতে পারি না। দুর্গন্ধ পুরো রুমে ছড়িয়ে পড়েছে। নিজের সিটে বসে থাকাটাও মুশকিল।

অপরদিকে কাউছার বিন হাসান নামে এক রোগীর স্বজন জানান, আমার স্ত্রীকে নিয়ে গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হই। ডাক্তাররা পানি সংকটের জন্য সিজার করতে না করলেও পরে তাদের অনুরোধে করে সিজার করাই এবং মেয়ে সন্তানের বাবা হই। সিজার করার সময় বাহির থেকে প্রায় ৪০ বালতি পানি এনে দেই। এত দুর্ভোগের সম্মুখীন আমি কখনো হইনি।

ইএইচ