এক সময়ের সোনালী আঁশ আজ বিলুপ্তির পথে

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৫, ০৪:৪২ পিএম

বাংলাদেশের গর্ব, এক সময়ের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস “সোনালী আঁশ” পাট আজ বিলুপ্তির পথে।

দেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত এ আঁশের জৌলুস এখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন কমছে, খরচ বাড়ছে, বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষকের আগ্রহও কমছে।

কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে পাট চাষের খরচ এখন ১০–১২ হাজার টাকা। উৎপাদিত পাট বিক্রি করেও খরচ ওঠানো দুষ্কর হচ্ছে। 

ধাপেরহাটের হিংগারপাড়া গ্রামের আবু খাঁনের পুত্র রোস্তম খাঁন বলেন, “এক বিঘা জমিতে পাট চাষের খরচ বাজারে বিক্রি করে তুলতে পারি না, লাভ তো দূরের কথা।”

আবহাওয়া পরিবর্তন, মানসম্মত বীজের অভাব, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া এবং সঠিকভাবে পাট রেটিং না করতে পারার কারণে ফলন আগের তুলনায় কমেছে। শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধিও কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

কামারপাড়ার কৃষক বিষু দাস বলেন, “দেশে পাটের দাম নেই। সিনথেটিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক বাজারে পাটের চাহিদা কমে গেছে, যা রপ্তানিতেও প্রভাব ফেলেছে।”

ফলে পাট চাষ লাভজনক না হওয়ায় কৃষকরা ধীরে ধীরে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। গ্রামীণ এলাকায় এক সময়ের পাট শুকানোর দৃশ্য এখন বিরল।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। মানসম্মত বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ এবং পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বাজারে নতুন চাহিদা তৈরি করতে হবে।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, “উপজেলায় এ বছর ৬০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য। কৃষককে টেকসইভাবে চাষে ফিরিয়ে আনতে হলে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ও আধুনিক গবেষণা কৃষক পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা জরুরি।”

ইএইচ