ময়মনসিংহের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে জেলেদের জালে একাধিক সাকার ফিশ ধরা পড়েছে।
হোসেনপুর–গফরগাঁও সড়কের খুরশিদ মহল সেতুর পশ্চিম পাড়ে এই বিদেশি মাছ ধরা পড়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ব্রহ্মপুত্র নদে জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় সংকেত।
বিদেশি মাছের হুমকি
সাকার ফিশ (Hypostomus plecostomus) দক্ষিণ আমেরিকার একটি বিদেশি ক্যাটফিশ প্রজাতি। সাধারণত অ্যাকুরিয়ামে শোভা বাড়ানোর জন্য রাখা হয়। লোরিকারিডে (Loricariidae) পরিবারভুক্ত এই মাছের দেহ ধূসর–বাদামি রঙের এবং শক্ত খোলসে আবৃত। মুখ চোষকের মতো হওয়ায় পাথর ও কাঠে লেগে থাকা শৈবাল খেয়ে বাঁচে।
কিন্তু নদী ও জলাশয়ে সাকার ফিশ মারাত্মক ক্ষতি করছে। দ্রুত বংশবৃদ্ধি এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে দেশীয় মাছের টিকে থাকার স্থান সংকুচিত হচ্ছে। এরা নদীর তলদেশের বাস্তুতন্ত্র পরিবর্তন করছে এবং মাছের ডিম ও ছোট মাছও খেয়ে ফেলে।
জেলেদের দুশ্চিন্তা
ময়মনসিংহের বিভিন্ন পুকুর, বিল ও খোলা জলাশয়েও সাকার ফিশ ধরা পড়ছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, দেশীয় মাছ কমে যাওয়ায় তাদের জালে এখন প্রায়ই এই মাছ ওঠে, ফলে জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
করণীয় পদক্ষেপ
সচেতনতা: জেলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সাকার ফিশের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।
নিয়ন্ত্রণ: নদ-নদী ও জলাশয় থেকে সাকার ফিশ অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
গবেষণা: মাছের জীবনচক্র ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা।
আইন প্রয়োগ: বিদেশি মাছ উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর আইন প্রয়োগ।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ব্রহ্মপুত্রসহ দেশের বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে সাকার ফিশের বিস্তার অবহেলা করলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও মৎস্যশিল্প উভয়ই মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
ইএইচ