ফেনীতে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা। কিছুদিন পর পর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস চরমে ওঠেছে।
দুই দিনের ব্যবধানে আটা কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। এছাড়া প্রতি বছরই বর্ষা শেষে শরৎ এলেই অলিখিতভাবেই বেড়ে যায় সবজির দাম। কেবল আলু মিলছে তুলনামূলক কম দামে।
শুক্রবার শহরের বড় বাজার ও সুলতান মাহমুদ পৌর হকার্স মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি সবজিতে ১০ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।
বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি ১২০-১৩০ টাকায়, মূলা ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, খিরা ৬০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, শসিন্দা ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বেগুন ৯০ টাকা, গাজর ১৪০-১৬০ টাকা, ঝিঙা ৮০-১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আলুর দাম অনেকটা স্থিতিশীল। আলু ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে আটাশ চাল কেজি প্রতি ৬২ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ টাকা, খোলা আটা ৫২ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৬ টাকা, ময়দা ৭২ টাকা, সয়াবিন তেল ১৮৭ টাকা লিটার, মসুরের ডাল ১০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, চিনি ১০৫ টাকা, হলুদ ২২০ টাকা, এলসি আদা ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, লাল মুরগি ৩২০ টাকা, সোনালি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শহরের বড় বাজারের সবজি বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, বৃষ্টি আর পরিবহনের ঝামেলায় সরবরাহ কমেছে। পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। আমরা কমে বিক্রি করব কীভাবে? তবে আলুর দাম সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে, সেজন্যই দাম কম।
পাঠান বাড়ি এলাকার গৃহীনি ফাতেমা আক্তার মুন্নী জানান, সবজি কিনতে গেলে আলু ছাড়া আর কিছু নেওয়া যায় না। আগে সপ্তাহে তিন-চার রকম সবজি কিনতাম, এখন সবকিছুই যেন নাগালের বাইরে।
বাজার করতে আসা রিকশাচালক সাহাব উদ্দিন বলেন, দিনে আয় করি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আগে অর্ধেক টাকা বাজারে খরচ হতো, এখন পুরো টাকাই বাজারে চলে যায়। ডাল, মাছ, মাংস তো স্বপ্ন, সবজি দিয়েই কোনো রকম সংসার চলছে।
দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনী পৌর তরকারি আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবু জাফর বলেন, বৃষ্টির কারণে সবজির দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। এখন রোদ ওঠায় গত কয়েকদিনের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বর্ষার কারণে সবজির দামে কিছুটা প্রভাব পড়ে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সব ধরনের সবজির দাম কমবে।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসাদুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, আদা, কাঁচা মরিচের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি চলছে। কেউ অন্যায়ভাবে দাম বেশি রাখলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্ল্যাহ জানান, টানা বৃষ্টির কারণে গ্রীষ্মের শেষ দিকে কৃষকরা সবজি আবাদে আগ্রহী না। এ মুহূর্তে আমাদের ১ হাজার ৪১ হেক্টর সবজি মাঠে থাকলেও চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়।
কৃষকরা শীতকালীন সবজির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। মৌসুমি সবজি বাজারে আসতে শুরু করলে দাম কমে আসবে।
ইএইচ